Russi-Ukraine War

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সব রকম সাহায্যে প্রস্তুত ভারত, কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর বড় বার্তা জয়শঙ্করের

যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার দিনেই ভারতের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সব রকম সাহায্যে প্রস্তুত ভারত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪২

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই বার্তা দেন। যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার দিনেই ভারতের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে কূটনৈতিক মহল  মনে করছে। দিল্লির এই বার্তা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ী কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে না।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনের ফাঁকে বিশকেকে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সংঘাতের প্রতিটি দিন মানেই আরও মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ। স্বাভাবিক ভাবেই, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে; তবে সেই প্রক্রিয়ায় ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”

অন্য দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে জয়শঙ্কর জানান, সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি ভারত ও ইউক্রেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেলেনস্কি ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফেরাতে অন্যান্য দেশও ভারতের মতো স্পষ্ট ও গঠনমূলক ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বৈঠকে ভারত-ইউক্রেনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক এবং ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সহমত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধের আবহেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উদ্যোগ স্পষ্ট হচ্ছে।


Share