Nepal Flash Flood

ন’দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার দুই শ্রমিক, নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও নিখোঁজ বহুজন

সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও আরও অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ভিতর থেকে একাধিক মানুষের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে।

ন’দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার দুই শ্রমিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নেপাল
  • শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৫

নেপালের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ন’দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও আরও অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ভিতর থেকে একাধিক মানুষের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। ফলে আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

গত ২৬ অগস্ট নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে হড়পা বান নামে। সেই সময় নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে চলা ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে পড়েন। এখনও ৯০০-র বেশি শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সে দিন থেকেই ৪০ জন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা লাগাতার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গ থেকে দু’জনকে জীবিত অবস্থায় বার করা সম্ভব হয়। নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা রাম নেউপানে ফেসবুকে এই সফল উদ্ধার অভিযানের খবর জানান। উদ্ধার হওয়া দু’জন হলেন সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। সঞ্জয় ওই প্রকল্পের মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজর। উদ্ধার করার পর দু’জনকেই অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকায় উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চলছে।

কবীর মহারাজনকে জীবিত উদ্ধারের পর তাঁর পরিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কবীরের স্ত্রী নেপালি সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বামীর এই ফিরে আসাকে তিনি ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বলে মনে করছেন।

ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ স্টেশনের সুড়ঙ্গে আরও শ্রমিক আটকে আছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, নীচ থেকে আরও কয়েক জনের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। তাঁদেরও শীঘ্রই সুস্থ অবস্থায় বার করে আনা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নেপালে উদ্ধারকাজ বার বার বাধার মুখে পড়ছে। হড়পা বানে উদ্ধারকাজের বহু সরঞ্জাম ভেসে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম দিয়েই কোনও রকমে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি সেনা। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে সুড়ঙ্গের মুখ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টা চলছে।

ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গে দু’জনকে জীবিত উদ্ধারের পরও নেপালের উদ্ধারকাজে স্বস্তি নেই। রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অবশ্য তেমন কোনও সাফল্য মেলেনি। সেখানে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ১৫০ মিটার এগিয়ে সেনাবাহিনী দুই শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করেছে। তবে ভিতরে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পে মোট ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নেপালে এক হাজার ২৫৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচ হাজার ৫৩ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে অনেক ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন।


Share