Special Intensive Revision

জলপাইগুড়িতে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মঘাতী মহিলা বিএলও, ‘অপরিকল্পিত কাজ’-এর অভিযোগ তুলে এসআইআর বন্ধ রাখার দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতার

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিএলও হওয়ার পর থেকেই অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে পারছিলেন না শান্তিমুনি। সারাদিন অঙ্গনওয়াড়ির কাজ, তার পর বাড়ির বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে রাতের বেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করানো, সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছিলেন তিনি।

জলপাইগুড়িতে বিএলও-র মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:২২

জলপাইগুড়ির মালে মৃত্যু হল এক বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র। অভিযোগ, তিনি কাজের চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃতার নাম শান্তিমুনি এক্কা (৪৭)। তিনি ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা বাগান এলাকায় বাসিন্দা। ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানায় করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার দাবি, এসআইআর অপরিকল্পিত ভাবে করা হচ্ছে। অবিলম্বে তা বন্ধ করা হোক। 

জানা গিয়েছে, শান্তিমুনি এক্কা পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তিনি রাঙামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০/১০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। বুধবার ভোরে বাড়ির পাশে একটি গাছে ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর অকালমৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের ‘অপরিকল্পিত কাজের’ জন্য রাজ্যে একের পর এক মৃত্যু ঘটছে। মুখ্যমন্ত্রী এসআইআরের কাজ বন্ধ রাখার জন্য কমিশনকে আবেদন করেছেন।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিএলও হওয়ার পর থেকেই অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে পারছিলেন না শান্তিমুনি। সারাদিন অঙ্গনওয়াড়ির কাজ, তার পর বাড়ির বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে রাতের বেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করানো, সব মিলিয়ে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছিলেন তিনি। মৃতার স্বামী সুখ এক্কা বলেন, “ফর্ম সব বাংলায়। কিন্তু এখানে বেশির ভাগই হিন্দিভাষী মানুষ বাস করেন। ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। প্রতি দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে লোকজন আসত। ও এই চাপ নিতে পারছিল না। কাজ থেকে অব্যাহতি চাইতে ব্লকে (অফিসে) গিয়েছিল। কিন্তু ওকে বলা হয়, নাম আছে, কাজ করতেই হবে। এই কথাই তাকে আরও ভেঙে দেয়।” 

আদিবাসী মহিলা বিএলও-র মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘আজ আবার আমরা জলপাইগুড়ির মাল এলাকায় একজন বুথ লেভেল অফিসারকে হারিয়েছি। তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন। এসআইআরের কাজের অসহনীয় চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছেন।’’ 

মুখ‍্যমন্ত্রী মমতার দাবি, রাজ্যে এসআইআর ঘোষণার পরে ২৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। কেউ ভয়ে, কেউ অনিশ্চয়তায় আবার কেউ মানসিক চাপে নিজেকে শেষ করে দেন। মমতা লেখেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অপরিকল্পিত অভিযানে প্রচণ্ড কাজের চাপে এতগুলো মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, এসআইআরের জন্য আগে ৩ বছর সময় লাগত। এখন নির্বাচনের আগে ‘রাজনৈতিক প্রভুদের’ খুশি করার জন্য পুরো কাজ শেষ করতে ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিএলওদের উপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বিবেক দিয়ে কাজ করার আবেদন করছি। আরও প্রাণহানির আগে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত অভিযান (এসআইআর) বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমোতে যান শান্তিমুনি। ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধিয়ে সাধারণত রান্নাঘরে যেতেন তিনি। কিন্তু বুধবার সেখানে তাঁকে না দেখে খোঁজ করা হয়। তখনই বাড়ির পাশে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখা যায়। পরে মাল থানার পুলিশ গিয়ে ওই বিএলও-র দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার খান্ডেবাহালে উমেশ গণপথ বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’’ 

বিএলও-র মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর এবং আদিবাসি উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বুলুচিক বরাইক। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘‘এসআইআর ফর্মের কাজ নিয়ে সর্বত্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত হিন্দিভাষী এই অঞ্চলে বাংলায় ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে একের পর এক ভুল হচ্ছিল। সেই আতঙ্ক এবং মানসিক চাপে পড়ে শান্তিমুনি শেষ পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ করেছেন।’’ মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘মৃতার পরিবারটির পাশে রাজ্য সরকার থাকবে।’’


Share