Golpark Turmoil

সোনা পাপ্পুর ফেসবুক লাইভ, তারপরেই গোলপার্কে বোমাবাজি-গুলিকাণ্ডে গ্রেফতার আরোও তিন জন

গোলপার্কের গন্ডগোলের ঘটনার পর থেকেই যে এফআইআর করা হয়েছিল তাতে রাহুল ও শুভঙ্করের নাম ছিল। তবে কার কী ভূমিকা, তা এখনও জানা যায়নি। এই বাবুসোনার সঙ্গে ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন পাপ্পু। সেই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কারও সঙ্গে আমার ছবি থাকলেই আমি দোষী হয়ে গেলাম?’’

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৪

গোলপার্কের গন্ডগোলের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। মঙ্গলবার পুলিশ ময়দান এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। সন্ধ‍্যায় আরও একজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হল, রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনা শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ এবং চঞ্চল নস্কর ওরফে সনু। রাহুল দাস কসবা এলাকার বাসিন্দা। শুভঙ্কর রায় লেক এলাকার বাসিন্দা। চঞ্চল সেলিমপুর রেল কলোনির বাসিন্দা। অভিযুক্ত রাহুল দাস সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ। চঞ্চল বাপি হালদারের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অধরা মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু।

গোলপার্কের গন্ডগোলের ঘটনার পর থেকেই যে এফআইআর করা হয়েছিল তাতে রাহুল, শুভঙ্কর এবং চঞ্চলের নাম ছিল। তবে কার কী ভূমিকা, তা এখনও জানা যায়নি। এই বাবুসোনার সঙ্গে ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন পাপ্পু। সেই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কারও সঙ্গে আমার ছবি থাকলেই আমি দোষী হয়ে গেলাম?’’  

গন্ডগোলের দু'দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয়রা সোনা পাপ্পুর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন। তবে এদিন সোনা পাপ্পু ফেসবুক লাইভ করেন। তাতে দেখা গিয়েছে, সে গাড়িতে বসে রয়েছেন। লাইভের শুরুতেই তিনি দাবি করেন, লাইভ করা তাঁর পছন্দ করেন না। কিন্তু বাধ্য হয়েই তা করছেন। তিনি সেই লাইভ করার কারণও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘রবিবারের পর থেকে শুনছি, সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে। কারণ, সে না কি কোথায় ঝামেলা করেছে।’’ এর পরেই পাপ্পু দাবি করেন, রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। তিনি জানান, রবিবার তাঁর বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল। সকাল থেকে পুজোয়  উপোস করে বসেছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুজোয় ছিলেন। তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে দেখা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী লাইভ করছিলেন। সকলে দেখেছেন। তাঁর দাবি, 'সশরীরে বাড়ির পুজোয় থাকলে ঝামেলায় কী ভাবে যাব?'

পাপ্পু ফেসবুক লাইভ করে দাবি করেন, এই ঘটনায় ধৃতের সঙ্গে তাঁর ছবির কোনও ছবি থাকলেই কিছু প্রমাণ হয় না। সমাজমাধ্যমে তাঁর লাইভ নিয়ে পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিষয়ে তদন্তকারীরা অবগত। গোলপার্কের ঘটনায় যে অভিযোগ হয়েছে, তার মধ্যে পাপ্পুর নামও রয়েছে। তাঁর খোঁজ চালানো হচ্ছে বলেও খবর।

গোলপার্কের ঘটনায় পাপ্পুকে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই নিয়ে লাইভে পাল্টা তাঁর দিকে আঙুল তোলেন পাপ্পু। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু বলেছিলেন, আমি বিড়ি কুড়িয়ে খাই। ওঁর বা ওঁর দল বিজেপির দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠন নেই। তাই খবর নেই। আমার বাবার তিনটি সোনার দোকান রয়েছে। আমি নিজেও ব্যবসা করি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘আমি নই, তিনি (শুভেন্দু) বিড়ি কুড়িয়ে খান। ফুলেফেঁপে উঠেছেন। তৃণমূলের হাত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে হয়তো বার করে দিয়েছেন। আমি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় জানি না। বিজেপি-তে গিয়েছেন চুরির টাকা বাঁচানোর জন্য।’’ এখানেই থামেননি পাপ্পু। তিনি বলেন, ‘‘আমি নাকি মিছিল, সভা আটকাই। আমার নামে থানায় রিপোর্ট করেননি কেন? আপনাদের সংগঠন নেই। দোষ চাপাতে হবে, তাই চাপাচ্ছেন।’’

উল্লেখ্য, রবিবার রাতের গন্ডগোলের ঘটনায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে রবিবার রাতেই দশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাঁদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সোমবারও বেশি রাতের দিকে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


Share