Special Intensive Revision

মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনবে তৃণমূল, সাংসদদের বৈঠকে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ

মমতা বলেন, “আমি চাই ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের সংখ্যা নেই, সেটা ঠিক। কিন্তু প্রস্তাব তো আনা যায়। সংবিধানে সেই প্রভিশন আছে। অন্তত রেকর্ডে তো থাকবে। জনস্বার্থে আমরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করছি।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২০

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করল তৃণমূল। মঙ্গলবার বিকেলে দুই কক্ষের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে থাকা কারোর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে ১০০ জন সাংসদের সাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে রাজ‍্যসভা এবং লোকসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সংখ্যা ৪১। প্রস্তাব আনতে গেলে আরও ৫৯ জন সাংসদের সাক্ষর লাগবে। তা অবশ্যই বিজেপি বা এনডিএ বিরোধী জোট হতে হবে। সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলির সাংসদদের কাছে দারস্থ হতে পারে। তাঁরা সকলে সাক্ষর করলেই অধিবেশন চলাকালীন নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা যাবে। প্রস্তাব আনার জন‍্য প্রয়োজনীয় সংখ‍্যা তাঁরা যোগাড় করতে পারবে বলেই মনে করছে তৃণমূল।

এর পরে সেই প্রস্তাব দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস করাতে হবে। তিনি সেই পদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত নন বা তাঁর ব‍্যবহার ভালো নয় এমন কিছু অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে সবটাই প্রমাণ সাপেক্ষ। এর পরে রাষ্ট্রপতির সাক্ষর হলেই মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ করা যাবে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনও নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচমেন্ট করা হয়নি।

দলীয় সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, চলতি বাজেট অধিবেশনেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হতে পারে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা এখন চরমে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তার ফলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে একমত হয়েছে বিরোধীরা। সংসদে শীঘ্রই সেই প্রস্তাব জমা পড়তে পারে। সেই সূত্রের এ-ও দাবি, তৃণমূল ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কার্যত প্রহসনে পরিণত করেছেন এবং বিজেপির হয়ে কাজ করছেন।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সূত্রের তরফে বলা হচ্ছে, ‘’নির্বাচন কমিশন দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিজেপির ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। দেশের অন্য প্রান্তে এই কাজ অনায়াসে করা গেলেও পশ্চিমবঙ্গে এসে বাধার মুখে পড়েছে। সোমবার প্রস্তাবিত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করার এই চেষ্টায় কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করেন কে শাসক হবে, আর এখন বিজেপি ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোটার হবে।”

দিল্লিতে থাকাকালীন ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। মমতা বলেন, “আমি চাই ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের সংখ্যা নেই, সেটা ঠিক। কিন্তু প্রস্তাব তো আনা যায়। সংবিধানে সেই প্রভিশন আছে। অন্তত রেকর্ডে তো থাকবে। জনস্বার্থে আমরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করছি।”

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ইমপিচমেন্ট করতে গেলে কত সংখ্যা লাগে জানেন? আমারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাঁকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। রাজ‍্যের দুর্ভাগ্য যে সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা মুখ‍্যমন্ত্রী ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন।”


Share