Kolkata Metro

চিংড়িঘাটা মেট্রো থমকে, রাজ্যের অসহযোগিতার অভিযোগে সরব রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

এই মামলা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে চিংড়িঘাটা সমস্যার সমাধান করুক। হাই কোর্টের নির্দেশ মতোই একাধিক বার চিংড়িঘাটা নিয়ে রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল-সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়।

চিংড়িঘাটা মেট্রো
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪০

চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। এই কারণে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্য সরকারকেই দায়ী করলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের জন্যই চিংড়িঘাটা মেট্রো স্টেশনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদীর আমলে কলকাতা মেট্রোর কাজ অগ্রগতি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘হাই কোর্টের নির্দেশের পরেও চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজে অনুমতি দিচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।’’

বিগত অনেকদিন ধরেই চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশে চিংড়িঘাটার মোড়ে মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণের কাজ থমকে গিয়েছে। অভিযোগ, চিংড়িঘাটা মোড়ে যদি মেট্রোর কাজ করতে হয় তাহলে বাইপাসে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। এর ফলে অসুবিধার সম্মুখীন হবে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারীরা। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি না-দেওয়ার কারণে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

এই মামলা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে চিংড়িঘাটা সমস্যার সমাধান করুক। হাই কোর্টের নির্দেশ মতোই একাধিক বার চিংড়িঘাটা নিয়ে রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল-সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বারবার বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও চিংড়িঘাটাতে কাজ এগোচ্ছে না, সেই কাজ একপ্রকার থমকেই রয়েছে। কিছু দিন আগেও বৈঠক হয়। তার পরেই রাজ্য জানিয়েছিল, এই মুহূর্তে রাস্তা বন্ধের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসেও তা সম্ভব নয়। ফেব্রুয়ারির আগে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ করা যাবে না।

এই বিষয় নিয়ে শেষ শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন যুক্তি খারিজ করে দেয়। জানায়, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি চলছে। এখনও ওই অংশে মেট্রোর কাজ শুরু হয়নি। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরের দিনই রেলমন্ত্রী সেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্য সরকার চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজে সহযোগিতা করছে না বলে মেট্রোর কাজ থমকে আছে। দেড় বছরের বেশি সময় হয়ে গিয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’’

অশ্বিনী বৈষ্ণবের আরোও দাবি, ৪০ বছরে ২৭ কিলোমিটার কলকাতা মেট্রোর কাজ হয়েছে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে সেই কাজে গতি এসেছে। গত ১১ বছরে ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোর সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। রেলমন্ত্রী চিংড়িঘাটার কাজের রাজ্য সরকারের সহযোগিতার আশাপ্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর তিনটি লাইনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছরের বাজেটের তুলনায় চলতি বছরের বাজেটে অরেঞ্জ লাইন ও পার্পেল লাইনে বরাদ্দ কমেছে। তবে গ্রিন লাইনে বরাদ্দের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ ২৯ কোটি টাকা। ব্লু লাইন মেট্রো দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম-র জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।


Share