Special Intensive Revision

হবিবপুর বিধানসভায় বিএলওর তালিকায় দু’জন তৃণমূল নেতার নাম! সরানোর দাবিতে কমিশনের কাছে নালিশ করল বিজেপি

হবিবপুর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি স্বপন সরকার বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। স্বপন বলেন, “বিজেপি এখন জনসমর্থন হারিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিএলও হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাঁরা কমিশনের নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করবেন।”

বিএলও তালিকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের নাম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিবপুর
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:২৫

মালদহের মানিকচকের পর এ বার হবিবপুর বিধানসভা। অভিযোগ, হবিবপুরের ব্লকের মঙ্গলপুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিএলওদের তালিকায় দু’তৃণমূল সদস্যের নাম রয়েছে। দু’জনেই স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বলে দাবি করেছে বিজেপি। শনিবার তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিজেপি কমিশনের কাছে নালিশও করেছে।

জেলা বিজেপির অভিযোগ, হবিবপুর বিধানসভার হবিবপুর ব্লকের মঙ্গলপুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৪ এবং ১২৫ নম্বর ব্লকের বিএলও যাদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। তাঁদের মধ্যে একজন আবার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। বিজেপির আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে বিএলও নিয়োগ করা হয়নি। তাদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের সরিয়ে নতুন বিএলও নিয়োগ করা হোক। এই নিয়ে তাঁরা ব্লক নির্বাচনী আধিকারিক এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে মালদহ জেলার বিজেপির সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিএলও হওয়ার যোগ্যতা তাঁদের নেই। তাঁরা তৃণমূলের সক্রিয় জনপ্রতিনিধি হয়েও তালিকায় রয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়মবিরোধী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিএলও হওয়ার যোগ্যতা তাঁদের নেই। তাঁদের অবিলম্বে সরানো হোক।” প্রতাপ আরও বলেন, “ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার থাকলে তৃণমূলের সুবিধা। তারা চায় তা থাকুক। আমরা রাজ‍্য নেতৃত্বের কাছেও জানিয়েছি।”

অন্যদিকে হবিবপুর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি স্বপন সরকার বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। স্বপন বলেন, “বিজেপি এখন জনসমর্থন হারিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিএলও হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাঁরা কমিশনের নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করবেন।” 

এর আগে বিএলওদের তালিকায় তৃণমূল সদস‍্যদের এবং নেতাদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তালিকা ধরে সমাজমাধ্যমেও দেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাদের সরিয়েও দেয় কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, এমন অভিযোগ এলে তাঁরা তদন্ত করবেন। তার পরেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এই ঘটনায় হবিবপুরের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় এই বিতর্ক ব্লকজুড়ে আরও উত্তাপ বাড়াবে।


Share