Gourbanga University

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দাপট, চুক্তিহীন নিরাপত্তা, প্রশ্নের মুখে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

প্রায় দেড়শো মিটার জুড়ে সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতের অন্ধকার নামলেই সেখানে নেশাখোরদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ। দিনে ক্লাস করতে এসে অচেনা লোকজনের উপস্থিতিতে আতঙ্কে থাকছেন ছাত্রীদের একাংশ।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩১

ক্যাম্পাস জুড়ে পড়ে রয়েছে মদের বোতল, বেড়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা। প্রায় দেড়শো মিটার জুড়ে সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতের অন্ধকার নামলেই সেখানে নেশাখোরদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ। দিনে ক্লাস করতে এসে অচেনা লোকজনের উপস্থিতিতে আতঙ্কে থাকছেন ছাত্রীদের একাংশ। এমনই চিত্র ধরা পড়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গত বছর এক বহিরাগত যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাসরুমে ঢুকে এক ছাত্রীকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছিল। সেই ঘটনার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে পড়ুয়াদের তরফে।

এরই মধ্যে ৩১ জানুয়ারি নিরাপত্তারক্ষীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন এজেন্সি নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে বর্তমানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পড়ুয়াদের দাবি, বহিরাগতদের চিহ্নিত করার জন্য পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তাঁদের আশঙ্কা, এমন অরক্ষিত পরিস্থিতিতে বড় কোনও অঘটন ঘটলে দায় নেবে কে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এগজিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি)-র সদস্যরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক সনাতন দাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে ইসি সদস্য এবং সর্বোপরি অধ্যাপক হিসাবে গভীর উদ্বেগ তো অস্বীকার করতে পারি না। আমাদের বিভাগে বছর দেড়েক আগে যে ঘটনা ঘটে গিয়েছিল, সেই মানসিক ক্ষত এখনও শুকায়নি। এই মুহূর্তে অফিসিয়ালি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী নেই।’

একই সুর শোনা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক তথা উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রতিনিধি সাধন সাহার গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘এই বিষয়ে একাধিক বার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট সংখ্যায় নিরাপত্তাকর্মী না থাকা। এটা যথেষ্ট উদ্বেগের।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘যে এজেন্সি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তারা আর থাকতে চাইছে না। ওঁদের দায়িত্ব পালন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নতুন এজেন্সি নিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। ভেঙে পড়া সীমানা প্রাচীর নিয়ে পূর্ত দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি।’


Share