Hill–Plains Standoff

বড়দিন–বর্ষবরণের মুখে উত্তরবঙ্গে পর্যটন সঙ্কট, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী গৌতম দেব

বড়দিন–বর্ষবরণের মুখে উত্তরবঙ্গে পর্যটনে অশনি সংকেত। পাহাড়–সমতলের গাড়ি চালকদের সংঘাতে দার্জিলিং যাত্রা অনিশ্চিত, আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসা।

শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের করণ
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৪

বড়দিন ও বর্ষবরণের মুখে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে তৈরি হলো গভীর অনিশ্চয়তা। পাহাড় ও সমতলের গাড়ি চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ এবার প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পাহাড়ে সমতলের গাড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে সমতল এলাকা থেকে দার্জিলিংয়ের কোনও পাহাড়ি গাড়িকে যাত্রী বা পর্যটক তুলতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সমতলের চালকরা। পাশাপাশি, দ্রুত সমাধান না হলে পাহাড়ের গাড়ির সমতলে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ের চালক সংগঠনগুলির অভিযোগ, সমতলের গাড়িগুলি পর্যটকদের সরাসরি টাইগার হিল, রক গার্ডেন ও পিস প্যাগোডার মতো জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের স্থানীয় চালকদের রোজগারে টান পড়ছে। তাই তাঁদের দাবি, সমতলের গাড়ি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পর্যটক নামাবে এবং সেখান থেকে স্থানীয় পাহাড়ি গাড়িতে দর্শন করানো হবে। এই দাবিকে ঘিরেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে সমতলের গাড়িচালক সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, পাহাড়ে পর্যটক নিয়ে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সমতলের চালক সংগঠনের নেতা সমীর পান্ডে জানান, পাহাড়ে তাঁদের ঢুকতে না দিলে সমতলেও পাহাড়ের গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি জিটিএ প্রধান অনীত থাপার সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করছেন। তবে পাহাড়ের সংযুক্ত চালক সংগঠনের মুখপাত্র রাহুল শারসা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় তাঁরা রাজি থাকলেও পাহাড়ে সমতলের গাড়ির বাণিজ্যিক যাতায়াত বা সাইট সিয়িং কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

এই অচলাবস্থায় উৎসবের মরসুমে গভীর উদ্বেগে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির তরফে সম্রাট সান্যাল ও দীপক মণ্ডল জানান, টাইগার হিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের যেতে না পারলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দার্জিলিংয়ের পর্যটন শিল্পে। এতে পর্যটকেরা যেমন ভোগান্তির শিকার হবেন, তেমনই ধাক্কা খাবে গোটা পাহাড়ের অর্থনীতি।

ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ দার্জিলিং থানায় জমা পড়েছে। উৎসবের মরসুমে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কয়েক হাজার পর্যটকের পাহাড় সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।


Share