Shoot Out

‘কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না’, স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে মৃত্যু শিক্ষক নজরুলের, তদন্তে পুলিশ

অভিযোগ, মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছোতেই কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁর পেটের ডান দিকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৪১

শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের। মৃতের নাম নজরুল ইসলাম (৪৫)। ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামপুরের মাদারিপুর এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নজরুল ইসলাম রামগঞ্জের রাজাভিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। নজরুলের বাড়ি ইসলামপুর শহরের আমবাগান মোড় এলাকায়। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তিনি বাইকে করে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, মাদারিপুর এলাকায় পৌঁছোতেই কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁর পেটের ডান দিকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ।

নজরুল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নজরুলের মেয়ে নয়না ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁর বাবার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। তা হলে কেন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং হামলার কারণ কী, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। দুষ্কৃতীদের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিহত নজরুলের স্ত্রী রোকসানা খাতুন জানান, স্থানীয়েরাই ফোন করে তাঁকে ঘটনার কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘সেই সময় আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আমার স্বামীও। তিনি জানান, তাঁকে গুলি করা হয়েছে। তবে কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা বলতে পারেননি।’’ এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় নজরুলকে প্রথমে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, কী কারণে নজরুলকে খুন করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিহতের মেয়ে নয়না বলেন, ‘‘আমার বাবা সৎ মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। কেন এমন হল, জানি না।’’


Share