Hospital

স্যালাইন শেষ, নিডল দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত! স্যালাইনের বোতল হাতে রোগী, উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ছবি ঘিরে বিতর্ক

এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সময় লাগবে।

উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হসপিটাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৭

রোগীর হাতে স্যালাইন শেষ হয়ে গিয়েছে। নিডল দিয়ে বেরিয়ে আসছে রক্ত। অথচ দীর্ঘক্ষণ কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা নেই। শেষ পর্যন্ত নিজেই স্যালাইনের বোতল হাতে নার্সদের কাছে যেতে হল রোগীকে। এমনই অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে কেন্দ্র করে।

জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাসু অধিকারী। তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর স্যালাইন শেষ হয়ে গেলেও তা খুলে নেওয়া হয়নি। উল্টে নিডল দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে।

বাসু অধিকারীর অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ কোনও নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীকে দেখতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে নার্সদের কাছে যান। সেখানে তাঁকে গিয়ে শুয়ে থাকতে বলা হয়। হাসপাতালের কোনও কর্মী এসে স্যালাইন পাল্টে দেবেন বলেও জানানো হয়।

অভিযোগ, এরপরও বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায়। হাতে যন্ত্রণা নিয়েই তাঁকে শুয়ে থাকতে হয়। পরে গিয়ে স্যালাইন বন্ধ করা হয়। হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাসু অধিকারীর দাবি, রোগী বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়।

বাসু অধিকারী বলেন, ‘‘সরকারি জায়গা। বেশি কিছু তো বলাও যায় না।’’ তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালে বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। তাই হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনার জন্য তিনি একজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেই অভিযোগটি পেয়েছেন।

বিধায়কের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সময় লাগবে। একইসঙ্গে কিছু নার্স ও আয়ার বিরুদ্ধে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে এসেছে বলে জানান তিনি।

রোগীর পরিবারের সদস্যদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে বা তাঁর প্রতিনিধিকে লিখিত অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ে আগামী সোমবার হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।


Share