ANPR Camera Of Kolkata Police

আর গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না! নম্বরপ্লেট স্ক্যান করেই ধরবে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি, মা উড়ালপুলে বসছে কলকাতা পুলিশের নতুন প্রযুক্তি

ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, বর্তমানে গাড়ি চালকদের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, পিইউসি, বীমা, লাইসেন্স-সব অন্যান্য নথি সঙ্গেই রাখতে হয়। পরিবহণকারী যানবাহনের বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট ও পারমিটও থাকা বাধ্যতামূলক।

মা উড়ালপুল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৪

কলকাতার রাস্তায় গাড়ির দুষণের নথি যাচাইয়ে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চলেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। গাড়ির নম্বরপ্লেট ক্যামেরায় স্ক্যান করেই দূর থেকে জানা যাবে গাড়িটির পিউসি বা পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল এবং ফিটনেস সার্টিফিকেটের বৈধতা রয়েছে কি না। কোনও নথির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে সতর্কবার্তা পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কলকাতা পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (নিক)-এর একটি চুক্তি করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ‘নির্ভয়া প্রকল্প-২’-এর অধীনে এই কাজ হবে বলে জানা গিয়েছে।

লালবাজার সূত্রের খবর, ‘নির্ভয়া প্রকল্প-২’-এর অংশ হিসেবে ৫৮ কোটি ২ লক্ষ টাকা এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে খরচ হবে। প্রথমে মা উড়ালপুলে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। পরবর্তী সময়ে কলকাতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও উড়ালপুলগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

নতুন ব্যবস্থায় অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআপ) ক্যামেরা গাড়ির নম্বরপ্লেট স্ক্যান করে সেটি সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে গাড়িটির দুষণের ছাড়পত্র বা গাড়িটি রাস্তায় চলার যোগ্য কি না তা-ও যাচাই করা সম্ভব হবে। এমন কোনও গাড়ি  যার যদি ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তা যদি ক‍্যামেরায় ধরা পড়ে তা হলে তাৎক্ষণিক ভাবে ট্রাফিক পুলিশকে সতর্ক করবে এই নতুন সিস্টেম। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এর ফলে প্রতিটি গাড়িকে থামিয়ে নথি পরীক্ষা করার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। এতে পুলিশ এবং গাড়ির মালিকের সময়ও কমবে। রিয়েলটাইম নম্বরপ্লেট স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে কোনও গাড়ির ট্রাফিক আইনভঙ্গের ঘটনা ধরা পড়লে স্বয়ংক্রিয় ভাবে সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্টার্ড মালিকের নম্বরে ই-চালানও পাঠানো যাবে। নথি ছাড়াই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এই প্রযুক্তি কলকাতার চলতি ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টে ইতিমধ্যেই এফআরসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ‘নির্ভয়া প্রকল্প-২’-এর অধীনে ৫৮ কোটি ২ লক্ষ টাকা ব‍্যয় করে কলকাতায় আরও ৬,৭০০টি সিসি ক্যামেরা এবং ৫০টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। আগামী দিনে শহরের আরও রাস্তা ও ফ্লাইওভারে এই ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, বর্তমানে গাড়ি চালকদের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, পিইউসি, বীমা, লাইসেন্স-সব অন্যান্য নথি সঙ্গেই রাখতে হয়। পরিবহণকারী যানবাহনের বৈধ ফিটনেস সার্টিফিকেট ও পারমিটও থাকা বাধ্যতামূলক।


Share