Arrest

সংখ্যালঘু স্কলারশিপে কোটি টাকার জালিয়াতি! চোপড়ায় রাজস্থান পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার তিন

অভিযোগ, রাজস্থানের নাগৌর জেলার প্রায় ২৫টি স্কুল ও কলেজের পরিচয় ব্যবহার করে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বিপুল সংখ্যক ভুয়া বৃত্তির আবেদন জমা দেওয়া হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চোপড়া
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৪:৩২

কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু বৃত্তি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় অভিযান চালাল রাজস্থান পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত ওই অভিযানে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপ এবং সাইবার জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল’-কে ব্যবহার করেই এই জালিয়াতির চক্র সক্রিয় ছিল। অভিযোগ, রাজস্থানের নাগৌর জেলার প্রায় ২৫টি স্কুল ও কলেজের পরিচয় ব্যবহার করে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বিপুল সংখ্যক ভুয়া বৃত্তির আবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পোর্টালের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়া বৃত্তির টাকা বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হচ্ছিল।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এই প্রতারণার পরিমাণ এক কোটিরও বেশি হতে পারে। ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মনসুর আলম, মুন্না মুস্তাফা এবং জুবের আলম চোপড়ার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। বুধবার রাতে যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।

ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাজেশ সিং জানান, মামলাটি মূলত রাজস্থান পুলিশের অধীনে তদন্তাধীন। চোপড়া থানা প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সহযোগিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার ধৃতদের ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে রাজস্থান পুলিশ চার দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং সাইবার অপরাধ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই চক্রের সঙ্গে বৃহত্তর কোনও আন্তঃরাজ্য জালিয়াত চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share