Government Fund Laundering

নজরুলের জন্মদিনে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা! পালাবদলের পরে সেই খরচই নামল দেড় লক্ষ টাকায়, প্রাক্তন পূর্ণমন্ত্রী মমতার দফতরের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ

গত বছরের এই দু’টি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাঁকঢোল পিটিয়ে বাঙালি অস্মীতার কথা প্রচার করেছিলেন। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের পূর্ণমন্ত্রী মমতা নিজেই ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩২

কবি নজরুলের জন্মদিন পালনে বিভিন্ন খাতে রাজ‍্যের কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। পালাবদল হতেই একই অনুষ্ঠান পালনে খরচ হল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব ছিল রাজ‍্যের তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের হাতে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দফতরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। মমতার নাম ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে। অভিযোগ, এই দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে রয়‍্যালটি বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এ বার তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের কবি নজরুলের জন্মদিন পালনে লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ সামনে এল।

গত বছরের ২৮ মে নবান্নের তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। রবীন্দ্র সদন এবং নজরুল তীর্থে ‘নজরুল জন্মৎসব-২০২৫’ পালন হবে। এই দু’টি জায়গা এই অনুষ্ঠান পালনের জন‍্য মোট ৪৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৫১ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ‍্যে শিল্পী, গায়ক, পরিচালক, বিভিন্ন সাজানোর সরঞ্জাম, মেমেন্টো, কাগজের ব‍্যাগ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি, গাড়ির খরচ, নন্দন চত্বরে মেলা ও প্রদর্শনীর খরচ হিসেবে ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫২ টাকা খরচ হয়। আবার নজরুল তীর্থে একই অনুষ্ঠানের জন‍্য ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৯৯ টাকা খরচ হয়েছে বলে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিককে জানানো হয়। নন্দন চত্বরে গত বছরের ২৬ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খরচটাও ওই ৩৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৫২ টাকার মধ্যেই হয়েছে।

পালাবদল হয়েছে। রাজ‍্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। তবে নজরুলের জন্ম জয়ন্তীর অনুষ্ঠান নন্দনে হয়নি। হয়েছে নিউ টাউনের নজরুল তীর্থে। সেই অনুষ্ঠানে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যে খরচ সামনে এসেছে তা কার্যত নিদর্শন। শব্দের সরঞ্জামে খরচ বরাদ্দ ছিল মাত্র ২১ হাজার টাকা। কোনও শিল্পীদের মোট দেওয়া হয়েছে ন‍’হাজার এবং সভার পরিচালককে দেওয়া হয়েছে দেড় হাজার টাকা। ফুলসজ্জার জন‍্য খরচ হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার টাকা। ডেকরেটর, লাইট, বিবিধ খরচ মিলিয়ে মোট ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা সরকারের কোষাগার থেকে বারাদ্দ করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ২১ মে এই নির্দেশিকা জারি করে তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতর।

উল্লেখ্য, গত বছরের এই দু’টি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাঁকঢোল পিটিয়ে বাঙালি অস্মীতার কথা প্রচার করেছিলেন। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের পূর্ণমন্ত্রী মমতা নিজেই ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। ইন্দ্রনীলের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া যে কার্যত অসম্ভব ছিল তা কেউ কেউ দাবি করেন।

একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেল তা কী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিগোচর হয়নি? না কি তাঁকে আড়ালে রেখে ইন্দ্রনীল সেন গোটাটি সাজিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার মমতা যদি জেনে থাকেন তা হলে তিনি বাধা কেন দিলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের খবর, একাধিক আধিকারিককের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। সরকারি অর্থ নয়ছয় নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে সরকার কোন পথে হাঁটে সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ‍্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি দুর্নীতির তদন্তে নেমে এমনই তথ‍্য জেনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠেছে মমতাকে এই মামলায় ইডি জেরা করবে কি না তা নিয়ে। তার মধ্যেই তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের এই কেলেঙ্কারি সামনে এল।


Share