Stone Syndicate

নকল ডিসিআর তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার বীরভূমের মহম্মদবাজারের তৎকালীন বিএলএলআরও সব্যসাচী মণ্ডল, পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

শনিবার গভীর রাতে সরকারী আধিকারিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রবিবার দুপুরে তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হয়েছে। বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গ্রেফতার সব্যসাচী দত্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪৪

পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ডিসিআর জালিয়াতি মামলায় এ বার পুলিশের জালে তৎকালীন বিএলএলআরও। ধৃতের নাম সব্যসাচী দত্ত। তিনি মহম্মদবাজারের বিএলএলআরও ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়গ্রামে অতিরিক্ত ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড পদে কর্মরত ছিলেন। শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিউড়ি থানায় ডেকে পাঠানো হয়। দীর্ঘ জেরায় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরও তিনি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর শনিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। সব‍্যসাচীকে চাকরি সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল মামলায় এর আগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের দুই কর্মী বিশ্বজিৎ সাহা ও প্রবীরকুমার দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জেরা করেই সব্যসাচী দত্তের নাম উঠে আসে। তদন্তে তাঁর সঙ্গে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার যোগসূত্রেরও তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর। পুলিশের অভিযোগ, ওই দুই কর্মী টুলু মণ্ডলের কর্মীদের জাল ডিসিআর তৈরির প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করতেন। আর সেই কাজে ‘সবুজ সংকেত’ আসত সব্যসাচীর কাছ থেকেই।

যদিও ধৃতের আইনজীবীদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজারে বিএলআরও পদে থাকার সময় নকল ডিসিআরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করেছিলেন সব্যসাচীই। তাঁদের প্রশ্ন, যে আধিকারিক এই মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারতেন, তাঁকেই কেন অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হল? টুলু মণ্ডল মামলায় এই গ্রেফতারিকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন‍্য দিকে, আদালতে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্যে মামলায় ‘বড় মাথা’-দের যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে। একাধিক সরকারি কর্মীর গ্রেফতারির পর এ বার একজন আধিকারিকের গ্রেফতারিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।


Share