Allhabad High Court

‘ইনস্টাগ্রাম চ্যাট মানেই পরকীয়া নয়’, স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ রায় হাই কোর্টের

পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে, স্ত্রী অন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

এলাহাবাদ হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, এলাহাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১৯

শুধু সমাজমাধ্যমে কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখিয়ে কোনও স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত—এমন দাবি করা যায় না। পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে, স্ত্রী অন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। ভরণপোষণের একটি মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাই কোর্ট।

পারিবারিক আদালত স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যান স্বামী। তাঁর অভিযোগ, এক আইনজীবীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী। প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয় স্ত্রী এবং ওই আইনজীবীর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম চ্যাটের স্ক্রিনশট। স্বামীর দাবি ছিল, এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ বাতিল করা উচিত।

তবে সেই দাবি মানেনি হাই কোর্ট। বিচারপতি জয়কৃষ্ণ উপাধ্যায় স্বামীর আবেদন খারিজ করে পারিবারিক আদালতের নির্দেশই বহাল রাখেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কথোপকথন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের উপযুক্ত প্রমাণ হতে পারে না। স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে বসবাস করছেন—এমন প্রমাণও মামলাকারীকে দিতে হবে।

আদালত আরও জানায়, কোনও পেশাগত যোগাযোগ, সাময়িক ভুল বা নিছক সন্দেহের ভিত্তিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিচারপতির বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার কথোপকথন সত্যি বলেও ধরে নিলেও, তা থেকে প্রমাণিত হয় না যে স্ত্রী ওই ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন বা তাঁর সঙ্গে আলাদা থাকছেন।

ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সতর্ক করেছে হাই কোর্ট। আদালতের মতে, ইলেকট্রনিক তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে সমাজমাধ্যমে চ্যাটের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শংসাপত্রও মামলাকারী স্বামী আদালতে পেশ করতে পারেননি। সেই কারণেও তাঁর দাবির পক্ষে ওই চ্যাটকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।


Share