Suicide

বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আত্মহত্যা! অশোকনগরে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ, পাশেই অচৈতন্য বাবা, তদন্তে পুলিশ

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন সঞ্জয়। ব্যবসায় মন্দার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। রাজনৈতিক কোন যোগ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তৃণমূল নেতা সঞ্জয় রাউত
নিজস্ব সংবাদদাতা, অশোকনগর
  • শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০২

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে একই বাড়ি থেকে বাবা ও ছেলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘর থেকে তৃণমূল নেতা সঞ্জয় রাউতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পাশেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর বাবা। নাম কমল রাউত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার সকালে অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িতে ঘটনাটি নজরে আসে। সঞ্জয়ের বয়স ৪৯ বছর। তাঁর বাবা কমল রাউতের বয়স ৭০ বছর।

পরিবারের সদস্যেরা বাড়ির বারান্দা থেকে ঘরের ভিতরে সঞ্জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে ঢুকে তাঁর বাবাকেও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত কমলকে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, কমল ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকতে পারেন।

সঞ্জয় অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন বাবা কমল। সঞ্জয় একসময় অশোকনগর এলাকার যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিভিন্ন সময় তাঁকে নারায়ণ গোস্বামীর সঙ্গে দেখা যেত। চলতি বিধানসভা ভোটেও তিনি তাঁর হয়ে কাজ করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজনীতির পাশাপাশি আমদানি-রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সঞ্জয়। ব্যবসায় মন্দার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সঞ্জয় প্রথমে তাঁর বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কী কারণে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখছে অশোকনগর থানার পুলিশ।


Share