Money Fraud

চাকরির টোপে ২২ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ! জমি-পুকুর বিক্রি করেও চাকরি মেলেনি, রায়গঞ্জে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি

অভিযোগকারী অমরজিৎ বর্মনের দাবি, ২০২২ সালে তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ২২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৩:৪১

চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। এ বার এমনই এক অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জে। বুধবার বিকেলে রায়গঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অমরজিৎ বর্মন নামে এক যুবক। অভিযোগে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক অসীম ঘোষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বিধানচন্দ্র পাল-সহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগকারী অমরজিৎ বর্মনের দাবি, ২০২২ সালে তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ২২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ওই টাকা বিধানচন্দ্র পালের মাধ্যমে তৎকালীন তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক অসীম ঘোষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অমরজিতের দাবি, চাকরির আশায় তিন বিঘা পুকুর এবং এক বিঘা জমি বিক্রি করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইতে শুরু করলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাত দেখাতে থাকেন। পরবর্তীতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর থেকে অভিযুক্তদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অসীম ঘোষের ব্যক্তিগত গাড়িচালক অশোক দেব শর্মা, তাঁর ভাই-সহ আরও কয়েকজনের যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০০ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। চাকরি না পেয়ে বহু যুবক এখন থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন এবং আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রতারিতদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে তাঁদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।


Share