Special Intensive Revision in Malda

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই নাম, দিশেহারা মোথাবাড়ির বাঙ্গি টোলার বাসিন্দারা

মালদহের মোথাবাড়ির বাঙ্গি টোলায় গঙ্গা ভাঙনে বাস্তুচ্যুত প্রায় দুই হাজার মানুষের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। বর্তমান ভোটার কার্ড হাতে থাকলেও পুরনো লিস্টে নাম না মিলায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এলাকায়। নাগরিক অ্যাকশন কমিটি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ০২:১৫

গঙ্গার ভাঙনে ভিটে-মাটি হারিয়ে বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিলেন মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভার বাঙ্গি টোলা এলাকায়। এবার তাদের সামনে এসেছে নতুন সমস্যা—২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা। অথচ সবার হাতেই রয়েছে বৈধ ভোটার কার্ড, এবং তারা বহু বছর ধরে নিয়মিতভাবে পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও লোকসভা—প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে এসেছেন।

সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীরা অতীতের ভোটার তালিকা খুঁজে দেখেন। সেখানেই ধরা পড়ে গরমিল। ২০০২ সালের তালিকায় নিজেদের নাম অনুপস্থিত দেখে হতভম্ব হয়ে যান তারা। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম বিভ্রান্তি—কীভাবে পুরনো লিস্টে নাম নেই, কোথায় ভুল হয়েছে, কোন নথি দেখালে মিলবে সমাধান—এ নিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সালের ভয়াবহ ভাঙনে মানিকচক বিধানসভার কেবি ঝাউবোনা অঞ্চলের ১১টি বুথ গঙ্গায় তলিয়ে যায়। তখন বহু পরিবার সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে চলে আসেন মোথাবাড়ির বাঙ্গি টোলায়। যাঁদের নাম পুরনো লিস্টে মিলছে না, তারা মূলত সেই সময়ের আশ্রিত পরিবার।

গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ নাগরিক অ্যাকশন কমিটি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরে লিখিত আকারে জানিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে ভুলত্রুটি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। বর্তমানে গ্রামে একটাই আলোচনা—পুরনো ভোটার তালিকার এই গরমিল কীভাবে তৈরি হল এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে। দ্রুত সমাধানের আশায় দিন গুনছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা।


Share