Scam of Awas Yojona

টাকা গেল কার অ্যাকাউন্টে! বিজেপি নেতার আবাস যোজনার টাকা নিয়ে নামের বিভ্রাটে চাঞ্চল্য পতিরামে

এমন ঘটনা প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটে। কিন্তু এ বার ঘটনাটিতে রাজনৈতিক তর্জা উঠে আসছে। এর কারণ আবাস যোজনার উপভোক্তা স্থানীয় বিজেপি নেতা। যদিও পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের সাফাই, দুই উপভোক্তার একই নাম থাকায় এই বিভ্রাট।

এই বাড়ি তৈরীর টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, পতিরাম
  • শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৭

আবাস যোজনা নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসছে। এবার আবাস যোজনার এমনই এক ঘটনা প্রকাশ্যে এল দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতে হারপুরে। আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা প্রাপ্ত মানুষের অ্যাকাউন্টে ঢোকার মেসেজ আসলেও ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি।

এমন ঘটনা প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটে। কিন্তু এ বার ঘটনাটিতে রাজনৈতিক তর্জা উঠে আসছে। এর কারণ আবাস যোজনার উপভোক্তা স্থানীয় বিজেপি নেতা। যদিও পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের সাফাই, দুই উপভোক্তার একই নাম থাকায় এই বিভ্রাট।

২০২৪ সালে বিজেপি নেতা ও পরিযায়ী শ্রমিক উত্তম সরকার সরকারি আবাসনের জন্য আবেদন করেছিলেন। নিয়ম মেনে তাঁর হিয়ারিং ও বাড়ি পরিদর্শনও সম্পন্ন হয়। পরে প্রাপকদের তালিকায় তাঁর নাম ওঠে এবং ২৮ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ঘর বরাদ্দের সরকারি চিঠি তুলে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর তাঁর মোবাইলে মেসেজ আসে যে, ঘর তৈরির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কিন্তু ব্যাঙ্কে গিয়ে তিনি দেখেন, কোনও টাকাই আসেনি।

এরপর উত্তম পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েত ও বালুরঘাট বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, তিনি বিজেপি করেন বলেই হয়তো এই সমস্যা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি মণ্ডল সভাপতি ছোটন চক্রবর্তী বলেন, উত্তম টাকা না পেলে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন।

যদিও পঞ্চায়েত প্রধান পার্থ ঘোষের বক্তব্য, ওই এলাকায় একই নামে আরও একজন উপভোক্তা রয়েছেন, যিনি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। তাঁর অ্যাকাউন্টেই টাকা জমা হয়েছে, কিন্তু ভুলবশত মেসেজ চলে গেছে অন্য উত্তমের ফোনে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ঘর দেওয়া হয়নি; বিজেপি কর্মীরাও এই প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন।

বালুরঘাটের বিডিও সোহম চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে নামের মিল থেকেই এই বিভ্রাট। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কর্মী পাঠানো হয়েছে। যিনি টাকা পেয়েছেন তিনি অযোগ্য হলে টাকা আটকে দেওয়া হবে, আর যিনি প্রকৃত প্রাপক, তিনি যোগ্য হলে তাঁকেই টাকা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, টাকা পাওয়া আরেক উত্তম সরকারের এখন পাকা বাড়ি রয়েছে। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করার সময় তাঁর কাঁচা বাড়ি ছিল। দীর্ঘদিন ঘর না পাওয়ায় কয়েক মাস আগে তিনি নিজেই পাকা বাড়ি তৈরি করেন। সম্প্রতি সেই পুরনো আবেদনের ভিত্তিতেই তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। যদিও দুই উত্তম সরকারের নাম এক, তাঁদের বাবার নাম ও জন্মতারিখ সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অন্যজনের মোবাইল নম্বর যুক্ত হলো।


Share