Shiv Ratri

আলো, ফুল আর ভক্তিতে মহোৎসবের আমেজ, শিবরাত্রিতে উৎসবের রঙে বালুরঘাট

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এক শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই মন্দির কেবল উপাসনার স্থান নয়, এলাকার সম্মিলিত ঐতিহ্যেরও প্রতীক। শিবরাত্রি উপলক্ষে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকা আলো ও ফুলে সাজিয়ে তোলা হবে, যাতে ভক্তিমূলক পরিবেশের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও তৈরি হয়।

বুড়ি কালী মাতা মন্দির
অরুণিমা কর্মকার, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৮

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট-এর ঐতিহাসিক বুড়া কালী মাতা মন্দিরে ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি উদযাপনকে সামনে রেখে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমান, প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হবে, যা এই অঞ্চলে এই দিনটি দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এক শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই মন্দির কেবল উপাসনার স্থান নয়, এলাকার সম্মিলিত ঐতিহ্যেরও প্রতীক। শিবরাত্রি উপলক্ষে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকা আলো ও ফুলে সাজিয়ে তোলা হবে, যাতে ভক্তিমূলক পরিবেশের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও তৈরি হয়।

মন্দির কমিটি জানিয়েছে, পূজার্চনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভক্তরা সারাদিন শিবলিঙ্গে জল ও দুধ অর্পণ করতে পারবেন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে মহা আরতি, চণ্ডীপাঠ এবং ভগবান শিবের জীবন ও কিংবদন্তি নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা। পাশাপাশি বড় আকারের অন্নভোগের আয়োজন এবং প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা থাকবে।

শুধু বালুরঘাট নয়, পার্শ্ববর্তী মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকেও বহু দর্শনার্থীর আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। শিবরাত্রির রাতে অনেক ভক্ত উপবাস ও প্রার্থনায় মন্দির প্রাঙ্গণেই অবস্থান করেন এটিও দীর্ঘদিনের রীতি।

ভিড় সামাল দিতে মন্দির কমিটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা, পানীয় জল, আলোকসজ্জা ও শৌচাগারের মতো মৌলিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাইরে শিবরাত্রিকে ঘিরে সামাজিক মিলনমেলার চেহারাও নেয় এই উদযাপন। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় হস্তশিল্প, মিষ্টি ও স্থানীয় খাবারের স্টল বসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভক্তদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করে। সব মিলিয়ে, শিবরাত্রি আবারও দেখাতে চলেছে কীভাবে বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবন গ্রামীণ বাংলার এই অংশে একসূত্রে গাঁথা।


Share