Suvendu Adhikary

রিচা ঘোষকে বাড়িতে গিয়ে সম্বর্ধনা বিরোধী দলনেতার, উত্তরবঙ্গের ‘অবহেলা’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

বাগডোগরায় নেমেই রিচা ঘোষের বাড়িতে গিয়ে সম্বর্ধনা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন-ব্যর্থতা থেকে খাসিমারা বিমানবন্দর, নতুন স্টেডিয়াম ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই রাজ্যকে আক্রমণ করে বিজেপির আসন্ন জয়ে আস্থা প্রকাশ করলেন বিরোধী দলনেতা।

রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা শুভেন্দু অধিকারীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:০৮

শনিবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছেই সরাসরি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিনি রিচাকে সম্বর্ধনা জানান, দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন উপহার তুলে দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শংকর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ীর বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জি, সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ বিজেপির একাধিক নেতানেত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, রিচার বাবার সঙ্গে আগেই তাঁর কথা হয়েছে। রিচা বাড়িতে না থাকার কারণে পূর্বে দেখা করতে পারেননি, কারণ বিশ্বকাপজয়ের পর তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সম্বর্ধনায় যোগ দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সিএবি—সব জায়গায় দায়িত্ব পালনের পর এদিন বাড়িতে সাক্ষাৎ হওয়ায় তিনি খুশি বলে জানান। ভারতীয় এবং বাঙালি হিসেবে রিচার সাফল্যে গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিলিগুড়িতে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্টেডিয়াম হলে ভালো হয়, তবে বর্তমান সরকারের আয়ু বেশি নেই বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার কোথাও কোনও বড় স্টেডিয়াম নির্মাণ করেনি এবং উত্তরবঙ্গ বরাবরই অবহেলিত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি, একের পর এক চা-বাগান বন্ধ হয়েছে, বালি-পাথর-গাছ পাচার বাড়ছে, নদীগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে সব ক্ষেত্রেই অবহেলা চলছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার অবস্থা আরও করুণ, মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত কোথাও একজন নিউরো সার্জন নেই বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

খাসিমারা বিমানবন্দর প্রকল্প নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে৷ তিনি জানান, আর্মি এনওসি দিলেও রাজ্য সরকার ২৫ একর জমি দিতে চাইছে না। বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, এআইআইএমএস নির্মাণ প্রত্যেক ক্ষেত্রে জমি দিতে রাজ্যের অনীহা আছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। এতে পর্যটন, বাণিজ্য, ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন সবই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাব ‘নেগেটিভ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উত্তরকন্যা নিয়ে বিরোধী দলনেতার মন্তব্য আরও তীব্র ছিল। তিনি জানান, উত্তরকন্যার পাশে রাজ্য সরকার ৪০-৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক প্রাসাদ তৈরি করেছে, কিন্তু সেগুলোর চাবি নবান্নে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কেউই ব্যবহার করতে পারেন না। শিলিগুড়ি সফরে মুখ্যমন্ত্রীর গোপনীয়তারও কটাক্ষ করেন তিনি। সন্ধেবেলায় লুকিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে।

মহাকাল মন্দির নির্মাণের বিষয়ে শুভেন্দু জানান, সরকারি টাকায় মন্দির তৈরি হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন এবং নানা মন্তব্যের মাধ্যমে হিন্দু বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদ মিছিলের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে হিন্দুদের অর্থেই যেমন রাম মন্দির দাঁড়িয়েছে, তেমনই ধর্মকে অপব্যবহার না করে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ বিজেপিকে বারবার ভোট দিয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপি ৮০ শতাংশ ভোটে জিতবে। তাঁদের সরকার এলে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উত্তরবঙ্গকে। বন্ধ চা-বাগান খুলে দেওয়া, পাহাড়-ডুয়ার্সের পর্যটন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য-শিক্ষা পরিষেবা বাড়ানো, আইআইটি-এআইআইএমএসের মতো প্রতিষ্ঠান আনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি, মাথার উপর ছাদ, হাতে কাজ ও পেটে ভাত নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। তাই আলাদা রাজ্যের দাবি অভিমান থেকেই ওঠে। কিন্তু বিজেপি কাজের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করবে—এ বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা।


Share