Railway Update

গঙ্গার ভাঙনে বিপর্যস্ত মালদহ-বিহার রেলপথ, এক দিনে বাতিল ২২ ট্রেন! ঘুরপথে ছুটবে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন

গঙ্গার জল ঢুকে জমি এবং রেললাইনের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৭

মালদহ রেল বিভাগের অন্তর্গত মালদহ ও বিহার সীমান্তবর্তী এলাকায় গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গঙ্গার জল ঢুকে জমি এবং রেললাইনের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে এ দিন ২২টি ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের পথও বদল করা হয়েছে।

পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, গঙ্গার জল না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্লাবনের জেরে নরম হয়ে যাওয়া মাটির বাঁধনও শক্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রেল পরিষেবায় বিঘ্ন চলতে পারে। যাত্রীদের ভোগান্তিও আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১ অক্টোবর বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে সাহেবগঞ্জ থেকে মালদহ টাউনগামী ৬৩৪০১ নম্বর মেমু, মালদহ টাউন থেকে কিউলগামী ১৩৪০৯ নম্বর এক্সপ্রেস, হাওড়া থেকে সাহেবগঞ্জগামী ১৩৪২৭ নম্বর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, আজিমগঞ্জ থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৬৩৪২১ নম্বর মেমু এবং সাহেবগঞ্জ থেকে ভাগলপুরগামী ৬৩৪১১ নম্বর মেমু। এ ছাড়াও বর্ধমান থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৬৩০৬৩ নম্বর মেমু, বারহরওয়া থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৫৩৪১১ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন, রামপুরহাট থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৬৩৪০৫ নম্বর মেমু, তিনপাহাড় থেকে রাজমহলগামী ৫৩৪৮১ এবং ৫৩৪৮৩ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

সাহেবগঞ্জ থেকে হাওড়াগামী ১৩৪২৮ নম্বর এক্সপ্রেস, কিউল থেকে মালদহ টাউনগামী ১৩৪১০ নম্বর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৬৩৪০২ নম্বর মেমু, সাহেবগঞ্জ থেকে আজিমগঞ্জগামী ৬৩৪২২ নম্বর মেমু, ভাগলপুর থেকে সাহেবগঞ্জগামী ৬৩৪১২ নম্বর মেমু এবং সাহেবগঞ্জ থেকে বর্ধমানগামী ৬৩০৬৪ নম্বর মেমুও বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাহেবগঞ্জ থেকে বারহরওয়াগামী ৫৩৪১২ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন, সাহেবগঞ্জ থেকে রামপুরহাটগামী ৬৩০৭৪ নম্বর মেমু, রাজমহল থেকে তিনপাহাড়গামী ৫৩৪৮৬ ও ৫৩৪৮২ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন, সাহেবগঞ্জ থেকে রামপুরহাটগামী ৬৩৪০৬ নম্বর মেমু এবং জামালপুর থেকে রামপুরহাটগামী ৫৩৪০৮ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।

রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনকে বিকল্প পথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের যাত্রায় আনন্দ বিহার থেকে আগরতলাগামী ২০৫০২ নম্বর তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস এবং দিল্লি থেকে কামাখ্যাগামী ১৫৬৫৭ নম্বর ব্রহ্মপুত্র মেল জামালপুর, মুঙ্গের ও কাটিহার হয়ে ঘুরপথে চলেছে। ১ অক্টোবর ভাগলপুর থেকে রাঁচিগামী ১৩৪০৪ নম্বর বনাঞ্চল এক্সপ্রেস এবং জামালপুর থেকে হাওড়াগামী ১৩০৭২ নম্বর এক্সপ্রেস ভাগলপুর, দুমকা ও রামপুরহাট হয়ে চলবে। একই দিনে গয়া থেকে হাওড়াগামী ১৩০২৪ নম্বর এক্সপ্রেস এবং নাটেশ্বর থেকে হাওড়াগামী ০৩০৩০ নম্বর বিশেষ ট্রেন কিউল, ঝাঝা ও আসানসোল হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে।

এ ছাড়াও, কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত স্টেশনের পরিবর্তে অন্য স্টেশন থেকে ছাড়বে। ১ অক্টোবর রামপুরহাট থেকে গয়াগামী ৫৩৪০৩ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনটি রামপুরহাটের পরিবর্তে সাহেবগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করবে। ভাগলপুর থেকে আজিমগঞ্জগামী ৫৩০৩০ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনটি ভাগলপুরের বদলে বারহরওয়া থেকে ছাড়বে।

যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় ভাগলপুর থেকে সাহেবগঞ্জের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়। সাহেবগঞ্জ পৌঁছে সেটি ফের ভাগলপুরের দিকে ফিরে আসে। গঙ্গার জলস্তর এবং রেললাইনের পরিস্থিতির উপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share