Sallary Stalled Scandel

মেডিকেল ছুটির ফাইল গায়েবের অভিযোগে দক্ষিণ দিনাজপুরে, বেতন বন্ধ শিক্ষকের

ডিপিএসসির করণিকের টেবিল থেকে প্রাথমিক শিক্ষকের মেডিক্যাল ফাইল উধাওয়ের অভিযোগ। বেতন বন্ধ, হেনস্থা ও ঘুষের ইঙ্গিত ঘিরে বিতর্ক। মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তদন্তের আশ্বাস।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৪৫

এক প্রাথমিক শিক্ষকের মেডিক্যাল ছুটির নথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ (ডিপিএসসি)-র এক করণিকের টেবিল থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনার জেরে শিক্ষকটির বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ব্লকের পশ্চিম চক্রের প্রাথমিক শিক্ষক রজত রায় বংশীহারি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির সদস্য। তাঁর অভিযোগ, মেডিক্যাল ছুটি শেষে স্কুলে পুনরায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ডিপিএসসিতে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজে যোগদানের অনুমতির চিঠি না আসায় খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ডিপিএসসি-র অ্যাকাউন্ট ক্লার্ক মিঠুন চক্রবর্তীর টেবিল থেকে তাঁর ফাইল নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।

রজতের আরও অভিযোগ, স্কুলে যোগদান ও গত পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন পাওয়ার জন্য তাঁকে দেড় মাস ধরে ডিপিএসসি দফতরে ঘুরতে হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানাতে গেলে তাঁকে চরম অপমান ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি। এখনও পর্যন্ত তাঁর পাঁচ মাসের এরিয়ার বেতন মেলেনি। পাশাপাশি, টাকা দিলে কাজ হবে—এমন ইঙ্গিতও তিনি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, ডিপিএসসি চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পরে প্রয়োজনীয় নথি জমা নেওয়ার পর ওই শিক্ষককে স্কুলে যোগদান করানো হয়েছে। বকেয়া বেতনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখছে বলেও জানান তিনি।

যাঁর বিরুদ্ধে ফাইল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে, সেই ডিপিএসসি-র করণিক মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, "দফতরের এক কর্মী অবসর নেওয়ায় ফাইল নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছিল।” টাকা দিলে কাজ হবে—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, শিক্ষকের বকেয়া বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা তৃণমূলের নেতা ও মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। তিনি বলেন, "শিক্ষকদের কেন হয়রানি হবে?" এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান। বামেদের শিক্ষক সংগঠন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ বলেন, "জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ডিপিএসসি-র ঘুঘুর বাসা না ভাঙলে শিক্ষকদের হেনস্থা ও হয়রানি চলতেই থাকবে। তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি রাজনারায়ণ গোস্বামীর অভিযোগ, “চেয়ারম্যান আমাদের কোনও কথাই শুনছেন না।”

রজত রায়ের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রী বকেয়া বেতনের বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকেও অপমান করা হয়। শুক্রবার তিনি মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের ভাই তথা তৃণমূল নেতা শাদুল মিত্রের দ্বারস্থ হয়ে বিচার চান। শাদুল মিত্র জানান, তিন দিন আগে তিনি ফোনে চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদার সঙ্গে রজতের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং আবারও বিষয়টি দেখবেন।


Share