Witchcraft Killing Horror

ডাইনি অপবাদের বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ নাতির বিরুদ্ধে, গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত

ডাইনি অপবাদের জেরে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে নাতির হাতে খুন হলেন ৬৯ বছরের লক্ষ্মী সরেন। ইট–পাথর ও হাসুয়া দিয়ে হামলার অভিযোগ। নাতি ও তাঁর শাশুড়ি গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ দিনাজপুর
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০০

ডাইনি অপবাদের জেরে ৬০-ঊর্ধ্ব বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে নাতির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতার নাম লক্ষ্মী সরেন (৬৯)। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত নাতি সঞ্জয় টুডু (২১) ও তাঁর শাশুড়ি মিঠুন সরেনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে।

রবিবার রাতে গুরুতর জখম অবস্থায় লক্ষ্মী সরেনকে উদ্ধার করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়।

পরিবার সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত কারণে লক্ষ্মী সরেন শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিলেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত সঞ্জয় টুডুর নাবালিকা বোন সোনুমি টুডু (১৬) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় সেই অসুস্থতার জন্য লক্ষ্মী সরেনকেই দায়ী করা হচ্ছিল। তাঁকে ডাইনি অপবাদ দিতে শুরু করে গ্রামের একাংশ। শনিবার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামে সালিশি সভা বসে। ডাইনি অপবাদ দূর করার নামে ওঝা ডেকে আনা হয়। অভিযোগ, এর জন্য মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডুকে প্রায় সাত হাজার টাকা দিতে হয়। এর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

কিন্তু রবিবার রাতে ফের সোনুমি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, সে জানায় স্বপ্নে দেখেছে তার দিদিমা তাকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছে। এই কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে ওঠে সঞ্জয়। অভিযোগ, এরপর সঞ্জয় ও আরও কয়েকজন ইট, পাথর ও হাসুয়া নিয়ে লক্ষ্মী সরেনের উপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর ছেলে মঙ্গলু টুডুকেও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে এসে লক্ষ্মী সরেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় বৃদ্ধার। এই ঘটনায় মৃতার ছেলে মঙ্গলু টুডু কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

মৃতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও গ্রামের আরও কয়েক জন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃতার পরিবার অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলু টুডু বলেন, “আমার ভাগ্নির অসুস্থতার জন্য নাকি আমার মা দায়ী। তাই মাকে ডাইন অপবাদ দিয়ে ইট, পাথর, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। যার জেরে মা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও অনেকে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, “এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


Share