Death of Shool Student

সময় মতো চিকিৎসা মেলেনি! গঙ্গারামপুরে হস্টেলের অবহেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মৃত্যুর অভিযোগ

দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে হস্টেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী অনুশ্রী হেমরমের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দু’দিন ধরে প্রচণ্ড ডায়ারিয়ায় ভুগলেও হস্টেল কর্তৃপক্ষ সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, এমনকি অভিভাবকদেরও খবর দেওয়া হয়নি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর
  • শেষ আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৪১

হস্টেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু। মৃতার নাম অনুশ্রী হেমরম (৮)। ঘটনাকে ঘিরে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। ছাত্রীর পরিবার হস্টেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। স্কুল হস্টেলের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা।

দু’দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন অনুশ্রী। ডায়ারিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। হস্টেলের বেডেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিলেন অনুশ্রী। অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও হস্টেল কর্তৃপক্ষ কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেনি। এমনকি অভিভাবকদের খবরও দেওয়াও হয়নি। শুক্রবার ভোরে আরও অসুস্থ হয়ে পরে ছাত্রী। পরিবারের লোকজন এসে অনুশ্রীকে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিববাড়ি রাজীবপুর খ্রীষ্ট রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হস্টেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য। অনুশ্রী হেমরম গঙ্গারামপুর থানার পীরপাল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা সুজন হেমরম। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। দুই বছর ধরে অনুশ্রী ওই স্কুল হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিল। ছাত্রীর মৃত্যুর পরে বাকি অভিভাবকেরা যথেষ্ট ভিত হয়ে পড়েন। তারা পড়ুয়াদের বাড়িতে নিয়ে যান। চলে হস্টেলে বিক্ষোভ। মৃত ছাত্রীর পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, বুধবার থেকেই অনুশ্রী ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু হস্টেল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীটির শারীরিক অবস্থা গ্রাহ্য করেন নি। তাকে ঘরের বেডেই ফেলে রাখা হয়। সময়মতো চিকিৎসা করলে অনুশ্রীর মৃত্যু এড়ানো যেত বলেই দাবি পরিবারের।

মামনি হাসদা নামে হস্টেলের দায়িত্ব থাকা এক কর্মী বলেন, ‘সঠিক নিয়ম করে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। হস্টেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়।’ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি কর্তৃপক্ষ। গঙ্গারামপুর থানার আধিকারিক শান্তনু মিত্র বলেন, ‘পুরো বিষয়টির উপর নজর রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি দেখছে।


Share