Suicide Attempt

স্বেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছা জানিয়ে নিজেকে বন্দি, জলপাইগুড়িতে দরজা ভেঙে নাটকীয় উদ্ধার

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নিঃসঙ্গ জীবনযাপন ও দীর্ঘদিন না খাওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অবনতি হয়েছিল।

উদ্ধার করতে উদ্যত পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৬:০৭

দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’- দাবি। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অবশেষে পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ উদ্যোগে দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় একজন মহিলাকে। নাম শান্তা হোম (৪৮)। শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তারপর তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তা হোম বহুদিন ধরেই একা থাকতেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তিনি কার্যত নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন। জীবিকার জন্য প্রাইভেট টিউশন করতেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি ঘরের বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দেন। এতে প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।তিনি কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।

মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। খবর দেন স্থানীয় কাউন্সিলর পৌষালী দাসকে। তিনিও এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। তখন ভিতর থেকে শান্তা জানান, তিনি ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ চান। বিরক্ত করা হলে আত্মঘাতী হবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে এলাকাবাসীর তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ এসে প্রথমে জানালা দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তখনই বোঝা যায়, দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তবুও তিনি ঘর থেকে বেরোতে রাজি হননি। শেষপর্যন্ত পুলিশ, কাউন্সিলর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার বক্তব্যে স্পষ্ট কোনও কারণ উঠে আসেনি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, তাঁর কেউ নেই। তিনি আর বাঁচতে চান না। বর্তমানে তাঁর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক অবস্থার দিকটিও খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকরা। কাউন্সিলর পৌষালি দাস জানিয়েছেন, স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারত। এখন তাঁর সুস্থতার দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।


Share