Fake Refund Scam

জাল সই ও সিল-সহ রসিদ পেশ করে প্রতারণার অভিযোগ, শিলিগুড়ি পুরসভা দ্বারস্থ পুলিশের

জাল রসিদ দেখিয়ে কর ফেরতের অভিযোগে রাজকুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ শিলিগুড়ি পুরসভার। ভুয়ো নথি ও জাল স্বাক্ষরের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শিলিগুড়ি পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৯

জাল নথি দেখিয়ে টাকা ফেরতের আবেদন করার অভিযোগে রাজকুমার আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করল শিলিগুড়ি পুরসভা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে তদন্ত জারি রয়েছে। ঘটনায় অনেকগুলি বিষয় খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। ওই নথিতে কে সই করেছেন, কোথা থেকে নথি তৈরি হয়েছে এগুলো জানা দরকার।' তাঁর কথায়, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্ত রাজকুমার আগরওয়ালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে রাজকুমারের মেয়ে পরিচয় দিয়ে এক তরুণী পুরসভায় এসে ১৮ হাজার ৮০০ টাকা ফেরতের দাবি জানান। এর আগেও একই ঘটনায় রাজকুমার নিজে পুরসভায় টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। জানা গিয়েছে, রাজকুমারের বাড়ি শিলিগুড়ি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। কয়েক বছর আগে তিনি নিজের বাড়ির জমির মিউটেশনের আবেদন করেন এবং বর্তমানে নিয়মিত জমির খাজনা ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন।

পুরসভার দাবি, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাজকুমার হোল্ডিং নম্বর ৪৮/৩২/৬২৩/৭১-এর নির্ধারিত করের দ্বিগুণ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করে ১৮ হাজার ৮৫৫ টাকা ফেরতের আবেদন করেন। সেই আবেদনের সঙ্গে তিনি দুটি কর জমার রসিদ জমা দেন—একটি ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ এবং অন্যটি ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখের। তদন্তে দেখা যায়, ২০২২ সালের রসিদটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং তাতে পুরসভার কর্মীদের জাল স্বাক্ষর রয়েছে।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, 'বিষয়টি নিয়ে ওই ব্যক্তিকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। তিনি একটি রসিদের আসল কপি এবং অন্যটির জেরক্স কপি জমা দেন। জেরক্স কপিতে কোনও মেমো নম্বর উল্লেখ ছিল না। কিন্তু সেটিতে পুরসভারর সিল এবং সই ব্যবহার করা হয়েছে।'

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিষদ রামভজন মাহাতো বলেন, 'পুরসভার সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছে। রাজকুমার যেসব নথি দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখে আমরা জেনেছি পুরসভা সেরকম কোনও টাকা নেয়নি। তিনি কাকে টাকা দিয়েছেন, কেন টাকা দিয়েছেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন।'

পুরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, রাজকুমার ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো নথি জমা দিয়েছেন, নাকি এর নেপথ্যে কোনও প্রতারণা চক্র সক্রিয় রয়েছে।


Share