KMC

কলকাতা পুরসভায় কর্মী ও বেতন খরচে গরমিলের অভিযোগ, ১৬ বছরের নিয়োগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি

আর্থিক গরমিলের কারণ খুঁজতে পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুর প্রশাসন। স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক ও এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্যের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক হাজিরাও খতিয়ে দেখা হবে। গত ১৬ বছরে পুরসভার নিয়োগ ও কর্মী সরবরাহের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৫

কলকাতা পুরসভার কোষাগারে গরমিল। বেরিয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। কর্মীসংখ্যার সঙ্গে বেতন ও মজুরি বাবদ খরচের হিসাব নিয়ে উঠেছে গরমিলের অভিযোগ। নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীর তুলনায় প্রতি মাসে কোষাগার থেকে বেশি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ ১৬ বছরের তৃণমূল জামানায় নিয়োগের ঝুলি প্রায় খালি। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুর প্রশাসন। আর্থিক এই অসঙ্গতির কারণ খুঁজতে এবার পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বিশেষ কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্যের উদ্যোগেই এই কমিটি তৈরি হয়েছে।

তদন্তে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ও বরো অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগ, পুরসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং মূল ভবনের কর্মী সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। কোন দফতরে কত জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, কত জন সরাসরি চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করছেন এবং কত জন এজেন্সির মাধ্যমে নিযুক্ত—সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে কর্মরতদের হিসাবও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। যাতে কাগজে থাকা কর্মীর সঙ্গে বাস্তবে কর্মরত ব্যক্তির হিসাবের কোনও পার্থক্য রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়।

শুধু কর্মীর নাম ও সংখ্যা যাচাই করেই তদন্ত শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিয়মিত কাজে আসেন কি না, তাঁদের কাজের ধরন কী এবং কত ঘণ্টা কাজ করছেন, সেই বিষয়গুলিও পরীক্ষা করা হবে। কে বেতন পান, কে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এবং কারা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান—তারও আলাদা তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৪ হাজারের কিছু কম। অন্য দিকে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি। এর বাইরে ১০০ দিনের প্রকল্পের সঙ্গেও বহু কর্মী যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি পুরসভার হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, অস্থায়ী কর্মীদের কাজের তুলনায় তাঁদের বেতন বা মজুরি বাবদ বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।

পুর প্রশাসনের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, এই গরমিলের সঙ্গে কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সিগুলির ভূমিকা থাকতে পারে। অভিযোগ, গত ১৬ বছরে পুরসভায় স্থায়ী পদে নিয়োগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সরাসরি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রবণতাই বেশি ছিল। এমনও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সিকে বারবার কর্মী সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, কর্মীসংখ্যা এবং কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রথম ধাপে অস্থায়ী কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর একে একে প্রতিটি কর্মীর অস্তিত্ব, কাজের ধরন এবং কর্মঘণ্টা যাচাই করা হবে।

তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা পুরসভা। ফলে গত ১৬ বছরে পুরসভায় হওয়া নিয়োগ এবং কর্মী সরবরাহের গোটা প্রক্রিয়াই এখন তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে।


Share