Santanu Sinha Biswas

অবাধে চলছে হাওয়ালা কারবার! ভিজিলেন্সের অভিযোগ স্বত্বেও বড়বাজার থানায় কাজে বহাল, এখনও শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠদের দাপট অব্যাহত

শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠেরা আবার সক্রিয় হওয়ায় পুলিশের একাংশের মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে। পুলিশের একাংশের অভিযোগ, কয়েক দিন ঘপটি মেরে বসে থাকলেও পরে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠেরা আবার দাপট দেখাতে শুরু করেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৫

বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমি দখল মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিল কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। পালাবদল হয়েছে। বিপুল আসন নিয়ে রাজ‍্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কলকাতা পুলিশের একাংশের অভিযোগ, কয়েক দিন ঘপটি মেরে বসে থাকলেও পরে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠেরা আবার দাপট দেখাতে শুরু করেছেন। শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের একদা ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে বড়বাজার এলাকায় হাওয়ালা সিন্ডিকেটে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বড়বাজার, পোস্তা, জোড়াসাঁকো কলকাতার ব‍্যবসার হাব হিসেবে পরিচিত। সেখানে হাওয়ালা চক্র চলার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ব‍্যবসায়ীরা ট‍্যাক্স ফাঁকি দিতে হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে তিনটি স্তর রয়েছে। ‘রিসিভার’, ‘ক্লায়েন্ট’ এবং এই দু’টি স্তরের মধ‍্যে থাকে ‘পোর্টার’ বা ‘ক‍্যারিয়ার’। অভিযোগ, এই ‘ক‍্যারিয়ার’-রা যাতে অবাধে ‘রিসিভার’ বা ‘ক্লায়েন্ট’-দের কাছে পৌঁছোতে পারে তার জন‍্য তাঁদের সুরক্ষা দিয়ে সেই কাজটি নিশ্চিত করে পুলিশেরই একাংশ।

পুলিশের একাংশের দাবি, কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকের প্রত‍্যক্ষ মদতে এই কাজ চলছে। তিনি এক সময় জমি দখল মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পুলিশ মহলের দাবি, তাঁকে দিয়েই আবার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছেন। পদন্নোতি হয়ে ডেপুটি কমিশনারের (নন আইপিএস) পদে বসা এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই হাওয়ালা চক্রের মদত দেওয়ার অভিযোগ করছে পুলিশেরই একাংশ।

পুলিশের একাংশের এ-ও বক্তব্য, বড়বাজার থানার কর্মরত এক সার্জেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিক গত তিন বছর ধরে একই থানাতেই রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভিজিলেন্স বিভাগের অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দিন আগে তাঁর বদলিতে সিলমোহর হয়েও আবার তিনি যাদুকাঠি বলে বড়বাজার থানাতেই ঘরওয়াপসি হয়েছেন। অন‍্য দিকে, পোস্তা থানার আরেক সার্জেন্টকে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়েছিল। তিনিও আবার পোস্তা থানাতে ফিরে এসেছেন। এ ছাড়াও, বড়বাজার থানার এআরও তিন বছর ধরে একই থানাতেই কর্মরত রয়েছেন।

এতে লাভ কী লাভ?, পুলিশের একাংশের দাবি, ওই টাকার ‘ক‍্যারিয়ার’ বা ‘পোর্টার’-দের সুরক্ষা দেওয়ায় একটা মাসিক টাকা সিন্ডিকেটের কাছ থে পৌঁছে যায়। আরার প্রতিটা ‘কনসাইনমেন্ট’ পিছু টাকা মেলে— এমনটাও হয়। তার অঙ্ক যথেষ্ট বেশি। তাই ওই দু’টি থানার গুরুত্ব বেশি।

রাজ‍্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমি দখলে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। পুলিশের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জমি দখল করতে জয় কামদার এবং সোনাপাপ্পুকে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। বড়বাজার এবং পোস্তা থানায় যে সমস্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশেরই একাংশ ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তাঁরা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ ছিল বলেই দাবি করা হয়েছে। আবার যে গুন্ডা দমন শাখার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে তিনিও শান্তনুর ঘনিষ্ঠ ছিল বলেই পুলিশ মহলে কান পাতলে শোনা যায়।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন। তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। কোনও ভাবেই দুর্নীতিকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না বলে পুলিশকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন শাখার হাতে টাকা নিতে গিয়ে একাধিক সরকারি আধিকারিক গ্রেফতার হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে রাজ‍্য সরকার।

তবে আবার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠেরা আবার সক্রিয় হওয়ায় পুলিশের একাংশের মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে।


Share