Nabanna

চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি রুখতে কড়া নবান্ন! মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা, দমকল পৌঁছোতে হবে ১৫ মিনিটে

কালীপুজো, দীপাবলি, জগদ্ধাত্রীপুজো, কার্তিকপুজো থেকে ছট—কোনও উৎসবেই যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন।

নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:৫৬

চোরবাগানকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন উৎসবগুলির নিরাপত্তায় কোমর বাঁধছে রাজ্য প্রশাসন। কালীপুজো, দীপাবলি, জগদ্ধাত্রীপুজো, কার্তিকপুজো থেকে ছট—কোনও উৎসবেই যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা, ঘাটের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে থিমের নামে আর তৈরি করা যাবে না আলো-আঁধারি পরিবেশ। প্রবেশপথ, প্রস্থানপথ এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের প্রতিটি জায়গায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তায় জারি করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)।

গত ২৮ অক্টোবর নবান্ন সভাঘরে উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর গত বৃহস্পতিবার পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে নগরায়ন ভবনে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে আসন্ন উৎসবগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। সেই বৈঠকের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট দফতর, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুরসভাগুলির জন্য একাধিক নির্দেশিকা তৈরি করেছে নবান্ন। নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, থানা, দমকল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপ ও ঘাটে প্রবেশ এবং বেরোনোর পথ নিরাপদ কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। মণ্ডপের পরিকল্পনাও মহকুমাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে পুলিশকে।

চোরবাগানের মতো বিপর্যয় এড়াতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী মণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। একটি দল মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই পরবর্তী দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে। কোনও অবস্থাতেই মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় জমতে দেওয়া যাবে না। ভিড়ের পরিমাণ বুঝে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। বড় পুজোগুলিতে অ্যাম্বুল্যান্স এবং প্রতিটি মণ্ডপে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও একাধিক নির্দেশ রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দমকলের সাহায্য পৌঁছে যায়। বড় মণ্ডপ ও ঘাটগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের মোতায়েন করতে হবে। ঘাটে নামার ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট এবং উদ্ধারকাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের আশপাশে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দোকান বা স্টল বসানোর ক্ষেত্রেও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথে যাতে কোনও বাধা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বেআইনি বাজির ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। মাইকে নির্দিষ্ট শব্দসীমা বজায় রাখতে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার এবং শব্দবিধি অনুযায়ী মাইক বাজানোর সময়সীমা কার্যকর করতে হবে। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে যৌথভাবে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজি সংক্রান্ত পৃথক নির্দেশিকাও স্বরাষ্ট্রসচিবের দফতর থেকে জারি করা হয়েছে।

ছটপুজো ও প্রতিমা নিরঞ্জনের ঘাটগুলির নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। ঘাট পরিষ্কারের জন্য পৃথক দল, ভিজে ও শুকনো বর্জ্য রাখার জন্য বড় পাত্র, পর্যাপ্ত আলো, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সিসিটিভির ব্যবস্থা করতে হবে। জলাশয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যারিকেড, মহিলাদের পোশাক বদলের পৃথক ঘর, গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের পুরসভার পরিচয়পত্র দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। উৎসবের আগের দিন থেকে ছটপুজোর পরের দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুরসভার নিয়ন্ত্রণকক্ষ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে। সব মিলিয়ে চোরবাগানকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরে কড়া নজরদারি চাইছে নবান্ন।


Share