Cyclone

সময়ের আগেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘মুরাসু’! নামের নেপথ্য অর্থ কি? অন্ধ্র উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা

‘মুরাসু’ নামকরণ করেছে ভারত। মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। উপকূলে ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:১১

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়। নতুন করে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক পূর্বাভাসে রবিবার মধ্যরাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই শক্তি সঞ্চয় করে ‘মুরাসু’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় এর শক্তি আরও বাড়তে পারে। তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে সেটি। ঘূর্ণিঝড় তৈরির সময় এগিয়ে আসায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময়ও বদলাতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা।

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।

‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারত। শব্দটির উৎস প্রাচীন তামিল ভাষা। মুরাসু এক ধরনের প্রাচীন তামিল বাদ্যযন্ত্র বা ঢাক। কথিত রয়েছে, অতীতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলে এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হত।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের কাছে আছড়ে পড়েছিল অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। তার দাপটে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক উপকূলবর্তী জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওড়িশাতেও এর প্রভাব পড়েছিল। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ফের একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে ‘মুরাসু’র সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করবে।


Share