TMC Political Crisis

নেই আগের মতো পরিস্থিতি! হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্বাভাবিক, শহরে কয়েটি যায়গায় যানজট হতে পারে জানান কলকাতা পুলিশ

পুলিশ মনে করছে, এ দিন কলকাতায় গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিক্ষিপ্ত প্রভাব পড়তে পারে ডাফরিন রোডেও। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাথিড্রাল রোডের একটি দিক খোলা থাকবে। তবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার কারণে ক্যাথিড্রাল রোড এবং কুইনসওয়ের সংযোগস্থলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:১০

বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের পরিস্থিতি পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। দুই ভাগে ভাগ হয়েছে তৃণমূল— কালীঘাট বা মমতাপন্থী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতপন্থী। তাঁরা আলাদা ভাবে ২১ জুলাই উপলক্ষে শহিদ দিবস পালন করবে। পাশাপাশি এ বারের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে সফল করতে মাঠে নেমেছে কংগ্রেসও। কলকাতায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি কর্মসূচি হচ্ছে। 

বিরাট কিছু পার্থক্য না হলেও সকাল ১১টার পর কিছু কিছু রাস্তায় যানজট তৈরি হতে পারে জানাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এই তালিকায় রয়েছে এসপ্ল্যানেড ক্রসিং, ডোরিনা ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, চৌরঙ্গি রোড, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, লেনিন সরণি, এসএন ব্যানার্জি রোড, মৌলালি ক্রসিং, এপিসি রোড, এজেসি বোস রোড, হাওড়া ব্রিজ, ব্রাবোর্ন রোড, এমজি রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, রবীন্দ্র সরণি, মেয়ো রোড, ডাফরিন রোড, থিয়েটার রোড, কুইনসওয়ে, ক্যাথিড্রাল রোড, হরিশ মুখার্জি রোড এবং এটিএম রোড।

শহিদ মিনারে প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ দিবসের কর্মসূচি পালন করবে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি রাস্তায় পণ‍্যবাহী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সেই রাস্তাগুলি হল— নিউ রোড, ডাফরিন রোড, হসপিটাল রোড, কুইনসওয়ে, চৌরঙ্গি রোড, জওহরলাল নেহরু রোড। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই রাস্তাগুলিতে পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই সমস্ত রাস্তা দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার, দুধ, মাছ-মাংসের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি রয়েছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এক দিকের রাস্তায় সেই কর্মসূচি হবে। ক‍্যাথেড্রাল রোডের পশ্চিম দিকে উত্তর থেকে দক্ষিণের রাস্তাটি খোলা থাকবে। সেখান দিয়ে যানচলাচল করবে। অন‍্য দিকে, তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী মেয়ো রোডে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করেছে। ওখানে চারটি রাস্তায় স্তব্ধ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তা নির্ভর করছে পরিস্তিতির ওপর। ভিড় বাড়লেই ঘোরানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ মনে করছে, এ দিন কলকাতায় গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিক্ষিপ্ত প্রভাব পড়তে পারে ডাফরিন রোডেও। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাথিড্রাল রোডের একটি দিক খোলা থাকবে। তবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার কারণে ক্যাথিড্রাল রোড এবং কুইনসওয়ের সংযোগস্থলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার ২১ জুলাইকে সামনে রেখে শহিদ মিনার, গাঁধী মূর্তি এবং বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। লালবাজার জানিয়েছে, তিনটি জায়গায় মোট এক হাজার বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। তিনটি জায়গায়তেই ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। সেন্ট্রাল, সাউথ-সহ অন্তত পাঁচজন ডেপুটি কমিশনারেরা আইনশৃঙ্খলার কাজে রাস্তায় থাকছেন। এইচআরএফএস, র‍্যাফ মোতায়েন করা হচ্ছে। অশান্তি এড়াতে তিনটি জায়গাতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় এই দিনে তবে সকাল থেকেই কলকাতা শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে গোটা লালবাজারকে রাস্তায় থাকতে হত। একাধিক রাস্তা ১১টার পরে বন্ধ রাখা হত। হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে কর্মীদের ঢল নামত। সাধারণ মানুষদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হত। এ বারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। 


Share