Supreme Court

ফ্রিজই থাকছে চার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ নয়, সুপ্রিম কোর্টে খারিজ তৃণমূলের আবেদন

ওই চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখার সিদ্ধান্তে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করল না। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০২

চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ধাক্কা খেল মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ওই চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রাখার সিদ্ধান্তে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করল না। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছিল, দলের প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ হয়। সামনে উপনির্বাচনও রয়েছে। ফলে ফ্রিজ হয়ে থাকা অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। ওই চারটি অ্যাকাউন্ট মূলত রাজ্য পুলিশের পদক্ষেপে ফ্রিজ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল কলকাতা হাই কোর্টেও আবেদন করেছিল। কিন্তু হাই কোর্ট সেই পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।

এর আগে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। আদালত নির্দিষ্ট শর্তে টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল এক জন বিশেষ আধিকারিককেও।

হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে কোনও দু’জনের চেক-সইয়ের পর বিশেষ আধিকারিককে তাতে সই করতে হবে। তার পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক টাকা দেওয়ার অনুমতি পাবে।

অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার পিছনে তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সেখানে বিভিন্ন অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ধাপে ধাপে প্রায় ১০ কোটি টাকা জমা করেছেন। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের মাধ্যমে প্রায় সাত কোটি টাকা জমা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের অভিযোগ থাকায় ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে।


Share