Molestration

আরজি করের সামনে প্রকাশ‍্য রাস্তায় শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অকথ‍্য ভাষায় গালিগালাজ-মারধর, গ্রেফতার অভিযুক্ত ইস্তেয়াকুর

গত মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম ইস্তেয়াকুর রহমান। অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

অভিযুক্তের নাম ইস্তেয়াকুর রহমান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৮

আবার শহরে প্রকাশ‍্য রাস্তায় তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল। আরজি কর হাসপাতালের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইস্তায়াকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আক্রান্ত তরুণীর নাম সঙ্গীতা সরকার। তিনি পেশায় শিক্ষিকা। তাঁর বক্তব্য, ওই দিন বিকেলে তিনি বন্ধুর স্কুটিতে চেপে ফিরছিলেন। আরজি করের সামনে উল্টোডাঙা থানার এলাকার ওয়েস্ট ক‍্যানাল রোডের সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় ইস্তেয়াকুর রহমান নামে একটি ব‍্যক্তি তাঁর দিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে হেলে পড়ে। তরুণীকে গায়ে দেয়। অভিযুক্তের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হয়। বিষয়টি অন‍্য দিকে যাওয়ার সন্দেহে অস্বস্তিতে পড়ে অভিযুক্তকে আত্মরক্ষায় গুঁতো মারেন তরুণী শিক্ষিকা।

এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বচসা শুরু হলে অভিযুক্ত ইস্তেয়াকুর দলবল ডেকে আনে। পুলিশ সূত্রের খবর, ইস্তেয়াকুর বেলগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা। সঙ্গীতার বক্তব্য, অভিযুক্ত ইস্তেয়াকুরের দলবল বাঁচানোর চেষ্টা করে একটি বাসে অভিযুক্তকে তুলে দেয়। আক্রান্ত তরুণী এবং তাঁর বন্ধু মিলে বাসটিকে আটকায়। বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করলে তরুণীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তরুণীকে বেলগাছিয়ায় এলে ধর্ষণের হুমকি দেয়। ওই তরুণীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

কোনও রকমে সঙ্গীতা ও তাঁর বন্ধু মিলে অভিযুক্ত ইস্তেয়াকুর রহমানকে টালা ট্রাফিক গার্ডের অফিসে নিয়ে যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, সেখানে বসেই তরুণীর উদ্দ‍্যেশে অভিযুক্ত ইস্তায়াকুর রহমান অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে।

জানা গিয়েছে, প্রথমে টালা থানায় সঙ্গীতা তাঁর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখান থেকে উল্টোডাঙা থানায় পাঠানো হয়। সেখানেই ঘটনারটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে লিখিত ভাবে জানান সঙ্গীতা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইস্তেয়াকুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইস্তায়াকুরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হলে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৪ নম্বর ধারায় ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছে আক্রান্ত গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন।

বেলগাছিয়ার যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত‍্যন্ত স্পর্ষকাতর এলাকা বলে চিহ্নিত। শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল গুলিতে পুলিশের নজরদারির নিয়ে এর আগেও একাধিক বার প্রশ্ন উঠেছে। পর্যাপ্ত পুলিশ থাকে না বলেই অভিযোগ রয়েছে। এ বার এমন এলাকাতেই ভরদুপুরে শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল। শহরে রাস্তায় নারী নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।


Share