Cyber Fraud

ইকোস্পেসে বেআইনি কল সেন্টারে অভিযান, গ্রেফতার ২৪ জন, বাজেয়াপ্ত ৫৩টি কম্পিউটার, আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্র বলে সন্দেহ পুলিশের

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাথোর ভরতকুমার অমিত সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল রাতে ইকোস্পেসের একটি বাণিজ্যিক ভবনের দু’হাজার স্কোয়ার ফুটের অফিস ভাড়া নিয়ে কল সেন্টার চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়।

(বাঁ দিক থেকে) নিউটাউনের ডেপুটি কমিশনার জ‍্যোতির্ময় রায়, কমিশনার রাথোর অমিতকুমার ভরত এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার দেবরাজ বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২২

বিধাননগরের সাইবার পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২৪ জন। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫৩টি কম্পিউটার। এ ছাড়াও, বিপুল পরিমাণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাথোর ভরতকুমার অমিত সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল রাতে ইকোস্পেসের একটি বাণিজ্যিক ভবনের দু’হাজার স্কোয়ার ফুটের অফিস ভাড়া নিয়ে কল সেন্টার চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়।

অভিযোগ, এই কল সেন্টার থেকে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগ, অ‍্যাপেল-সহ সংস্থার প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়ার নাম করে টাকা আদায় করা হত। মূলত আমেরিকার নাগরিকেরা এই প্রতারকদের টার্গেটে ছিল। তার জন‍্য বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছিল কাজকর্ম। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, কেউ টার্গেটের তথ‍্য পাচার করে প্রতারকদের কাছে পৌঁছে দিত। কীভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছোতে হবে তা ঠিক করত অন‍্য একটি দল। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কীভাবে হাওয়ালার মাধ‍্যমে পাচার করা যাবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করত।

ঘটনায় ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন যুবক এবং ১৩ জন মহিলা রয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ভিনরাজ‍্যের বাসিন্দার রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদের মধ্যে মণিপুরের বাসিন্দা কতজন রয়েছেন তা নিশ্চিত করেননি পুলিশ কমিশনার। বলেছেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ‍্য উঠে আসবে।”

বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার আরও জানিয়েছেন, “এই বেআইনি কল সেন্টার চক্রের মূল পাণ্ডাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ গ্রেফতার হয়েছে।” তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ সূত্রের খবর, দু’হাজার স্কোয়ার ফুটের অফিস কে অভিযুক্তদের ভাড়া দিয়েছিলেন তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অফিসের ভাড়ার টাকা কে মেটাত সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সংঘটিত অপরাধ চক্র জড়িত রয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনারের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নিদান করেছে। বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”


Share