Arrest

ডিম ছোড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্কশাল আদালতে ধুন্ধুমার, দীপক ব্যাপারিকে ঘিরে আইনজীবী-বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি, তদন্তে এনআইএ

অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী এবং আইনজীবীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা গড়ায় ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

অভিযুক্ত দীপক ব্যাপারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪০

ইউটিউবার দীপক ব্যাপারিকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী এবং আইনজীবীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে তা গড়ায় ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

অভিযোগ, দীপককে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার প্রতিবাদ করায় প্রথমে বিক্ষোভকারীদের একাংশ দুই আইনজীবীকে মারধর করেন। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনজীবীদের একাংশ পাল্টা বিক্ষোভকারীদের তাড়া করেন এবং এক জনকে ধরে ফেলেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

দীপকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০ দিন আগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রজু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। এ ছাড়াও, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। একটি বিশেষ ধর্মকে তুলে ধরা এবং তার বিপরীত ধর্ম্বালম্বী মানুষদের কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এর পাশাপাশি দীপকের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এনআইএ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে খুঁজছিল। গত সোমবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এনআইএ তামিলনাড়ুর কোয়মবত্তূর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। ফেসবুক এবং ইউটিউবে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন দীপক। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যকলাপ তদন্তকারী সংস্থার নজরে আসে বলে এনআইএ সূত্রের দাবি। আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে থাকবেন।

এই তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির একটি মামলাও। গত মে মাসে কলকাতার বাসিন্দা জাফর রিয়াজকে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জাফরের বিরুদ্ধে এর আগেও লুকআউট নোটিস জারি হয়েছিল। ২০০৫ সালেও পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এনআইএ সূত্রে আরও দাবি, জাফরের স্ত্রী পাকিস্তানি এবং তাঁদের সন্তানও পাক নাগরিক। তদন্তকারীদের সন্দেহ, জাফরের সঙ্গে যুক্ত ওই নেটওয়ার্কের সঙ্গে দীপকের কোনও গোপন যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সূত্রেই দীপকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


Share