Mamata Banerjee

কালীঘাটে তৃণমূলের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, আহত কর্মীদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে পাঠালেন মমতা, পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপির 'দলদাস' হয়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী।

কালীঘাটে তৃণমূলের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৪

কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের মিছিল ঘিরে বালিগঞ্জে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক অনুগামীকে মারধর করেছে বিজেপি সমর্থকরা। তবে ঘটনার জন্য শুধু বিজেপিকেই নয়, পুলিশের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপির 'দলদাস' হয়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার তৃণমূলের মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে হাজরা মোড়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। মিছিলকে ঘিরে আগেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি ছিল এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক হাজার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে মিছিল শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কালীঘাট এলাকায় তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, বিজেপি-সমর্থিত একদল ব্যক্তি তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মীকে মারধর করেন। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের কাছে আমার আবেদন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওদের নিজেদের সংগঠনের জোর নেই। গুন্ডা এনে তাণ্ডব করছে। আর এগুলো ঘটছে পুলিশের সামনেই।’’ মমতা আরও বলেন, ‘‘আমি বিজেপিকে দোষ দেব না। দোষ পুলিশের। আমরা আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মিছিল করছি। কিন্তু পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করেনি।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘আইসি তো এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এসপি জেলা সভাপতি। টোটাল ল-লেস সিচুয়েশন চলছে। পুলিশ যদি আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারে... ওরা আদালতের নির্দেশের অবমাননা করেছে। আমরা আবার হাই কোর্টে যাব।’’

মমতা জানান, আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তাঁর দলের যুব সংগঠন এই মিছিল করেছিল। কিন্তু বাইক মিছিল করে এই কর্মসূচি ভন্ডুল করেছে বিজেপি। মমতার অভিযোগ, সকাল থেকে তাঁর কাছে হুমকি আসছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর বাড়ির সামনে দিয়ে হাজারখানেক বাইক নিয়ে মিছিল করেছে সকালে। কারও মাথায় হেলমেট নেই। চিৎকার করতে করতে তাঁকে ভয় দেখিয়েছে। তখন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। এরপর বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তোমরা কী করে সরকারে এসেছ, সেটা তো জানি। মানুষকে সুরক্ষা দাও। এমনিতে হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। আমাদের আটকে রাখছে। যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে পুলিশ নেই।’’ আবার বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘সকাল থেকে বালিগঞ্জ থেকে কালীঘাট পর্যন্ত ডিজে বাজাচ্ছে। মেয়েদের মারধর করা হয়েছে। ছেলেদেরও মারধর করা হয়েছে। এই পরিবর্তন বাংলা চেয়েছিল?’’

এরপর আহত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিজের বাড়ি থেকেই হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে তিনি নিজেই নির্দেশ দেন, কারা কোন হাসপাতালে যাবেন। সেই সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘হাসপাতালেও যেতে দিচ্ছে না পুলিশ! রাস্তা আটকাচ্ছে ওরা।’’

পরে বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, , ‘‘যারা রামের টাকা চুরি করে খায়, প্রণামীবাক্সের টাকা চুরি করে খায়, তারা রামের নামে স্লোগান দিচ্ছে! লজ্জা পাওয়া উচিত। রাম কা নাম বদনাম না করো। বাট আই অ্যাম নট ব্লেমিং দ্য বিজেপি। আই অ্যাম ব্লেমিং দ্য পুলিশ।’’


Share