Murder Case

পারিবারিক অশান্তির বলি মেয়ে, ইট দিয়ে মেরে খুন, বস্তাবন্দি করে দেহ কুয়োয় ফেলল বাবা

বাঁকুড়ার শ্যামপুর এলাকায় নিখোঁজের দু’সপ্তাহ পরে কুয়ো থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় যুবতী ভবানীর দেহ। পুলিশের জেরায় অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, মাংস রান্না নিয়ে ঝগড়ার সময় ইট দিয়ে আঘাত করে মেয়েকে খুন করে দেহ কুয়োয় ফেলে দেয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:২৯

পারিবারিক অশান্তির জেরে মেয়েকে খুন করে দেহ লোপাটের ঘটনা বাঁকুড়ায়। মৃত যুবতীর নাম ভবানী। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর বাবা ঈশানকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ঈশান দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন। তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় দু’বছর আগে ভবানীর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি। তাই মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তিনি বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি বাঁকুড়ার শ্যামপুর গ্রামে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। 

গত ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে ভবানীকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। মেয়ের নিখোঁজের প্রায় দু’সপ্তাহ পরে তিনি বাঁকুড়া সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবে ৩১ ডিসেম্বর রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। ওই দিন স্থানীয় বাসিন্দারা শ্যামপুর লাগোয়া ওন্দা থানার দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ ও পাতা সংগ্রহ করতে যান। সেখানে তীব্র পচা গন্ধ পান। একটি পরিত্যক্ত কুয়োর মধ্যে বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে কুয়ো থেকে বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে দেহ শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীর বাবাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, মৃতদেহের সঙ্গে বস্তার ভিতরে ইট ও পাথর ভরা ছিল। ফলে বস্তা ভারী হয়ে কুয়োর জলে ডুবে যায়। জেরায় ঈশান এই পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে।

প্রতিবেশী শেফালি মাল জানান, ঘটনার পর ঈশানের দ্বিতীয় স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁদের তিনটি ছোট সন্তান বর্তমানে তাঁর কাছেই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুনের কোনও আঁচ আমরা পাইনি। ভবানী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কোথাও চলে গিয়েছে বলেই সবাই ভেবেছিলাম।”

এ দিন বাঁকুড়া আদালতে পেশের সময় ঈশান স্বীকার করে, ভবানী শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পর থেকেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়শই ঝগড়া চলছিল। বাড়িতে জায়গার অভাব এবং সংসার নিয়ে চাপ ছিল। ঘটনার রাতে মাংস রান্না করা নিয়ে ভবানীর সঙ্গে তীব্র বিবাদ হয়। রাগের মাথায় ইট দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করে সে। পরে পুলিশের ভয়ে রাতের অন্ধকারে দেহ বস্তায় ভরে কুয়োর মধ্যে ফেলে দেয়।


Share