Special Intensive Revision

এতো কাজের চাপ নিতে পারছি না! পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের সামনে কেঁদে ফেললেন মহিলা বিএলও

পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরে সরকারি অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত। জেলাশাসক এস. পোন্নামবলমের সামনে কাজের চাপে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৬৭ নম্বর বুথের বিএলও শ্যামলী মণ্ডল। দুই দায়িত্ব সামলাতে না পেরে সাহায্যের আবেদন করেন তিনি। জেলাশাসক আশ্বাস দেন কাজের চাপ কমানোর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাদের নির্দেশ দেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

জেলাশাসকের সামনে আবেগঘন বিএলও
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ০২:২৫

সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর রূপনগরে ঘটে গেল এক আবেগঘন মুহূর্ত। জেলাশাসক এস. পোন্নামবলমের সামনে নিজের অসহায়তার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৬৭ নম্বর বুথের বিএলও শ্যামলী মণ্ডল।

ঘটনার সময় জেলাশাসক এসেছিলেন এলাকার ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে গৃহীত একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। গাড়ি থেকে নেমে মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় রাস্তায় শ্যামলীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। গলায় বিএলও–র পরিচয়পত্র দেখে জেলাশাসক জানতে চান, “বুথে কতজন ভোটার?”

শ্যামলীর জবাব, ‘প্রায় ১৪০০।’ কত জনকে এনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া গিয়েছে জানলে চাইলে বিএলও বলেন, ‘প্রায় ১১০০।' তৎক্ষণাৎ প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। হাসিমুখে বলেন, 'আপনি খুব ভালো কাজ করছেন, ধন্যবাদ।'

কিন্তু সেই প্রশংসাই যেন বাঁধ ভাঙা আবেগের কারণ হয়। হঠাৎই কেঁদে ফেলেন শ্যামলী। জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওর সামনেই কান্না আটকে রাখতে পারেননি তিনি।

বিস্মিত জেলাশাসক জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি তো ভালো কাজ করছেন, কাঁদছেন কেন?’ গলা কেঁপে ওঠে শ্যামলীর। একনাগাড়ে বলেন, ‘ঘড়িতে রাত সাড়ে ১০টা, তখনও এনিউমারেশন ফর্ম হাতে কড়া নাড়তে হচ্ছে ভোটারের দরজায়। বাড়ি ফিরে অবশ্য তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ছি। ক্লান্তিতে। আবার ভোরের দিকে উঠে বাড়ির কাজ, রান্নাবান্না সেরে গন্তব্য কর্মক্ষেত্র। আইসিডিএস কেন্দ্র। প্রায় দু’কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় সেখানে। ওই কাজ শেষ হলেই রাস্তায় নামছি বিএলও–র ভূমিকায়। কাজের চাপে ঠিক মতো খাবারও খেতে পারি না। ফর্ম দেওয়ার কাজ সেরে বাড়ি যখন ঢুকি, তখন পুরো পাড়া ঘুমিয়ে।’

জেলাশাসকের কাছে তাঁর অনুরোধ—'স্যার, দু’টো কাজ একসঙ্গে করা আর সম্ভব হচ্ছে না। অন্তত যত দিন ভোটের কাজ চলছে, তত দিন আইসিডিএসের দায়িত্বটা কেউ দেখলে ভালো হয়।'

শ্যামলীর অনুরোধ শুনে আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক এস. পোন্নামবলম। উপস্থিত মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ও সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন, ‘ওঁর কাজটা কী ভাবে কমানো যায় অবশ্যই আপনারা দেখবেন।’

আসানসোলের মেয়র তথা বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ও ঘটনাটি জানার পর শ্যামলীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। পরে অনুষ্ঠান শেষে আরও তিনজন বিএলওর সঙ্গে কথা বলেন জেলাশাসক। তাঁদের কাজের অগ্রগতি ও সমস্যার খোঁজ নেন।

শেষে বিডিওকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি, ‘বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। সুপারভাইজ়ার আর এআরও–দের (অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার) মাঠে নামিয়ে দিন। ওরাই ফিল্ডে কাজ দেখুক।’


Share