weather update

শক্তি বাড়াল ঘূর্ণিঝড় মান্থা, সন্ধ্যের মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ল্যান্ডফলের সম্ভবনা

ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা। অন্ধ্রপ্রদেশের ১৯ জেলায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৩:৩১

আরও শক্তি বাড়িয়ে মঙ্গলবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে মান্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বা রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম থেকে কলিঙ্গপত্তনমের মাঝে ল্যান্ডফল করবে। সেই সময় এর গতিবেগ হবে সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার। স্থলভাগে প্রবেশের পর শক্তি হারাবে মান্থা। তবে এটি ঘূর্ণিঝড় রূপে বেশ কিছুটা এগোবে তারপর গভীর নিম্নচাপ রূপে ছত্রিশগড় পর্যন্ত যেতে পারে। আগামীকাল ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলার সমুদ্র উপকূলে যেতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মৎস্যজীবীদের।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ওড়িশাতে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ১৯টি জেলায় লাল সতর্কতা জারি। ছত্তিশগড়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিরপাতের সম্ভবনা রয়েছে। সঙ্গে দমকা ঝোড়ো বাতাস ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে। 

দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মান্থা আরও শক্তিশালী হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আপাতত ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপত্তনম থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে ও কাকিনাড়া থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। 

বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে এ রাজ্যেও। উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলাতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বুধবার মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে দমকা বাতাসের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইতে পারে।

বৃহস্পতিবার মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইবে। শুক্রবারে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলার কিছু অংশে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমবে।

দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। বুধবার হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম এই ছয় জেলাতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। 

বৃহস্পতিবারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা। পুরুলিয়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। শুক্রবারেও বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টিপাতের‌ সম্ভাবনা। শনিবার থেকে বৃষ্টিরপাতের পরিমাণ কমবে।

ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ও মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। আজকের মধ্যে বাংলার উপকূলে মৎস্যজীবীদের ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামীকাল ২৮ শে অক্টোবর থেকে ৩০ শে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলার উপকূলে সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের।


Share