Special Intensive Revision

রাজ‍্য পর্যাপ্ত কর্মী দেয়নি তাই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টকে জানাল নির্বাচন কমিশন, বানানে দক্ষদের তালিকা জমা দিতে রাজ‍্যকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

তথ‍্যগত অসঙ্গতি বা লজিক‍্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের ভাষাগত সমস্যা হতেই পারে। ইংরেজিতে কোনও নাম যেভাবে লেখা হয়, অন্য ভাষায় সেই নাম ভিন্ন হতে পারে। শীর্ষ আদালত মনে করছে, কোনও ভোটারের যদি নামের বানানের হেরফের হয় তাহলে সেটা ঠিক করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫১

রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চলছে। এর মধ্যে তৃণমূল কমিশনেরর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে শীর্ষ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করেন। সেই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন জানিয়েছে, রাজ‍্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মী দেয়নি, তাই কমিশন সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করতে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে ‘বাধ্য’ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বানানে দক্ষ, এমন আধিকারিকদের তালিকা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে রাজ‍্যকে জানাতে হবে।

তথ‍্যগত অসঙ্গতি বা লজিক‍্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের ভাষাগত সমস্যা হতেই পারে। ইংরেজিতে কোনও নাম যেভাবে লেখা হয়, অন্য ভাষায় সেই নাম ভিন্ন হতে পারে। শীর্ষ আদালত মনে করছে, কোনও ভোটারের যদি নামের বানানের হেরফের হয় তাহলে সেটা ঠিক করতেই হবে।

তৃণমূলের অভিযোগ, যে সমস্ত ভোটারের তথ‍্যে তথ‍্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের অকারণে শুনানিকেন্দ্রে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এটা ইচ্ছাকৃত ভাবে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা। শীর্ষ আদালতকে কাছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই বিষয়ে তিনি ছ’বার চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠির উত্তর কমিশন একবারও দেয়নি। বিজেপি শাসিত রাজ‍্যগুলি থেকে রোল অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ‍্যের মানুষকে পিষে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন মমতা।

এর আগেও এসআইআরের কাজের কর্মীর জন্য আবেদন করেছিল কমিশন। অভিযোগ, রাজ্যের অর্থ দফতর তার অনুমোদন দেয়নি। বুধবার শীর্ষ আদালতকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিতে পাল্টা কমিশন জানায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষ অফিসার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুনানির জন্য শুধুমাত্র ৮০ জন ক্লার্ক দেওয়া হয়। তাই হয়ত এমন সমস্যা হচ্ছে। 

এর পরেই আদালত জানিয়েছে, রাজ্যকে দক্ষ অফিসার দিতে হবে। যাঁদের বাংলা ভাষার ওপর দখল রয়েছে, গ্রুপ-বি পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ করাতে হবে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগেই আধিকারিকদের তালিকা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেই মতো শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেবে। নামের বানান ঠিক করতে তাঁদেরকে ব্যবহার করতে হবে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এ ছাড়াও, তথ‍্যগত অসঙ্গতি বা লজিক‍্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ‍্যম দিওয়ান আদালতকে জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেন হয়েছে, কী জন্য হয়েছে, ভুল কোথায় হয়েছে, তা সাধারণ ভোটারের বোঝার কথা নয়। তাঁর দাবি, কমিশনকে এ সব বিষয়ে সব স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ওয়েবসাইটের তালিকাই নয় শুধু, আলাদা করে সকলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাই জারি হওয়া নোটিস প্রত্যাহার করার যুক্তি অবাস্তব। তবে এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী পরামর্শ? তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার আইনজীবী জানান, সময় কম। তাঁর দাবি, বানানের ভুলের জন্য যেন কাউকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির’ আওতায় না ফেলা হয়। প্রধান বিচারপতি এ-ও জানান, এক এক জায়গায় এক এক রকমের উচ্চারণ হয়। তাই বানান যে সম্পূর্ণ ভুল, এমনটা নয়। 

এর পর মমতা বলেন, "আমাকে যদি পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়, আমি বলতে পারি। আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। তাই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলতে পারি।" মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, "আমাদের আইনজীবীরা প্রথম থেকে লড়ছেন। সুবিচারের জন্য কাঁদছি আমরা, পাচ্ছি না। ছ'টি চিঠি লিখি কমিশনকে। কোনও জবাব আসেনি।" 

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন বলেন, "মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত লোকের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, তা নিশ্চিয়ই আপনি চান না? আমাদের উদ্দেশ্য কোনও প্রকৃত ভোটার যেন বাদ না যান।" এই সংক্রান্ত কিছু ছবি দেখাতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, "বিয়ের পর পদবী বদলের জন্য নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে কমিশন।" যদিও ছবি দেখানোর অনুমতির দেননি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।


Share