Special Intensive Revision

‘মমতাকে দেখে মেজাজ হারিয়েছেন মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক,’ অভিযোগ তৃণমূলের, পাল্টা টেবিল চাপড়ানোর অভিযোগ সিইওর

বুধবার তৃণমূলের তরফে স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, পুলক রায়, পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

সিইও-র সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের পর্ব শেষ করে দিল্লি থেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন, তখন রাজ‍্য মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঁচ সদস্যের তৃণমূলের প্রতিনিধি দল আসে। শাসকদলের অভিযোগ, রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে দেখে মেজাজ হারিয়েছেন। যদিও কমিশন তৃণমূলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য টেবিল চাবড়েছেন। চেঁচামেচি করছিলেন। তাঁর কথায়, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

বুধবার তৃণমূলের তরফে স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, পুলক রায়, পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ‍্যের পাঁচ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়নি বা যাঁদের ভোটার তথ‍্যে কোনও গলদ নেই তাঁদেরও যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, মাইক্রো অবজার্ভারের যাচাই করার বা রাখার সাংবিধানিক বৈধতা কী আছে, তা নিয়ে রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের কাছে ডেপুটেশন দেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ‍্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা দাবি করেন, তাঁরা একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে সিইও কাছে এসেছিলেন। কিন্তু আচমকা তিনি মেজাজ হারিয়েছেন। মন্ত্রীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। তাই রেগে গিয়েছেন সিইও। আচমকা মেজাজ হারালেন।” তিনি আরও বলেন, “সিইও বলেছেন, মাইক্রো অবজার্ভার বিষয়টি বিচারাধীন আছে। আমরা বলেছি, তাহলে তাঁদের প্রত‍্যহার করুন। বলতেই মেজাজ হারিয়েছেন। তাতে আমাদের কিছু নেই। আমরা মানুষের কথা বলছি। মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ সারা ভারত দেখেছে।”

যদিও রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায় ব‍্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক আচমকাই টেবিল চাপড়াতে শুরু করেন। বলতে থাকেন, ‘আমায় বলতে দিতে হবে’। তিনি শান্ত হতে বলেন। বলেন, “কোনও বৈঠকের একটা নিয়ম রয়েছে। আমি রেগে যাইনি। আমি বারবার তাঁদের কথা শোনার জন‍্য সময় দিয়েছি। আমার মেজাজ হারানোর সময় নেই।” রাজ্যের মন্ত্রী বা সাংসদের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন ভিতরে নিয়ম অনুযায়ী কোনও নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত থাকে না বলেও জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

তৃণমূলের আরও বক্তব্য, “মাইক্রো অবজার্ভার কি সাংবিধানিক বৈধতা কি? তাঁরা কারা? কী ভাবে কাজ করছেন, তা আমাদের বলতে হবে। এক যায়গায় একেক রকম নিয়ম করা হচ্ছে।”


Share