Kolkata Municipal Corporation

জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ায় পুরসভার অন্দরে অবৈধ দালাল চক্র, উঠছে সমালোচনার ঝড়

এমন ঘটনা সামনে আসার পর পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘যদি কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করে থাকে বা ঘুরপথে জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র দিয়ে থাকে, তা হলে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৩

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর জন্য নাগরিকদের কাছে জন্মের ডিজিটাল শংসাপত্রের চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সুযোগেই কলকাতা পুরসভায় জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র শাখায় একটি অবৈধ চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, কিছু কর্মী ও দালাল মিলে সাধারণ আবেদনকারীদের কাছে সরকারি নিয়মের বাইরে প্রতিটি জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। এমন অভিযোগের কথা জানাজানি হতেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে পুরসভার অন্দরেই।

কলকাতার বাসিন্দাদের যদি পাসপোর্ট নবীকরণ, এসআইআরের শুনানিতে জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্রের প্রয়োজন হয়, তাঁরা পুরসভার তরফে চালু করা ‘চ্যাটবট’ স্লটের জন্য আবেদন করে থাকেন। কিন্তু অনেকেই চ্যাটবটের স্লট পাচ্ছেন না এবং নথিপত্র জমা দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুরসভার অন্দরে। তারাই জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। যা পুর প্রশাসনের অন্দরমহলে কালোবাজারি হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ, পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের পরিচিত এক নাগরিককে দ্রুত জন্মের শংসাপত্র পাওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। ওই ব্যক্তি বিষয়টি সরাসরি মালাকে জানালে পুর প্রশাসনের নজরে আসে। মালা রায় ওই ব্যক্তিকে সহজেই জন্ম শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেন। মালা রায় বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তিকে আমি সব রকম সাহায্য করে জন্মের শংসাপত্র পাইয়ে দিয়েছি। কিন্তু কে বা কারা পুরসভার অন্দরে এই দালালচক্র চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতেও আমরা পদক্ষেপ করব।’’ একই ভাবে কলকাতা পুরসভার এক কর্মকর্তার আত্মীয় জন্মের শংসাপত্র পাওয়ার আবেদন করলে, তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই পুরসভার আধিকারিক বিষয়টি জানতে পারেন। আত্মীয়কে তিনিই জন্মের শংসাপত্র পেতে সাহায্য করেছেন। আরও একটি অভিযোগের কথা কানে এসেছে পুরসভার আধিকারিকদের। এক ব্যক্তির কাছে জন্মের শংসাপত্র পাওয়ার বৈধ কাগজপত্র থাকলেও, তাঁর কাছেও ঘুষ চাওয়া হয়েছিল।

এমন ঘটনা সামনে আসার পর পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘যদি কেউ সরকারি নিয়মের বাইরে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করে থাকে বা ঘুরপথে জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র দিয়ে থাকে, তা হলে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকারি চ্যাটবট সিস্টেমের মাধ্যমে জন্ম, মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে আবেদন করুন এবং দালাল বা অনিয়ম এড়িয়ে চলুন।”


Share