Special Intensive Revision

‘নির্বাচন কমিশন আমাদের অসম্মান করেছে, জমিদারের মতো আচরণ করছে,’ বৈঠক ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এর পরেই নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘‍’এই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমাদের কোনও আশা নেই। এরা বিজেপির দালাল, দালাল, দালাল, দালাল...।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতার দাবি, বৈঠক চলাকালীন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জমিদারি মেজাজে কথা বলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫২

রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের দফতরে পৌঁছে যান। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে এসে তিনি দাবি করেছেন, কমিশন তাঁদের উত্তর ঠিকঠাক দেয়নি। তাঁদের অপমান করেছে। তাই তিনি বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন। এর পাশাপাশি নির্বাচনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার জন্য দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার নির্ধারিত সময় মতো বিকেল ৪টের পর নির্বাচন সদনে পৌঁছোলন মমতা। সঙ্গে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের পরনেই কালো পোশাক। বৈঠক শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ‍্যেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বেরিয়ে আসেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় নির্বাচন সদনে বৈঠক করেন মমতারা। বৈঠক শেষে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’’ মমতার অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় কাজ কমিশন করছে।

কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জ্ঞানেশ কুমারকে বিজেপির ‘তোতাপাখি’ বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর কথায়, তিনি অনেক নির্বাচন কমিশনার দেখেছেন। কিন্তু কেউ ‘তোতাপাখি’ ছিলেন না। সেই জন্য তাঁদেরকে অসম্মান করা হয়েছে। মুখ‍্যমন্ত্রীর দাবি, ঠিক ভাবে প্রশ্নের উত্তর কমিশনের কর্তারা তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে দেয়নি। সেই কারণেই মুখ‍্যমন্ত্রী বৈঠক বয়কট করে চলে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি যা বলছে কমিশন তাই করছে। আমাদের পক্ষে জনতা আছে। আমরা ময়দানে লড়ে নেব।’’ এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘‘ওঁদের বলেছি, আমরা আপনাদের কুর্সিকে সম্মান করি। কারও জন্য কুর্সি চিরন্তন নয়।’’

এর পরেই নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘‍’এই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমাদের কোনও আশা নেই। এরা বিজেপির দালাল, দালাল, দালাল, দালাল...।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতার দাবি, বৈঠক চলাকালীন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জমিদারি মেজাজে কথা বলেছেন।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই কর্মের জন্য একদিন ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক দিন ওঁকে (জ্ঞানেশ কুমার) ভুগতে হবে। আপনার পাশে বিজেপির শক্তি আছে। কিন্তু আমাদের পাশে জনগণ রয়েছে। আমরা বয়কট করে চলে এসেছি। আমাদের অসম্মান করেছে, অপমান করেছে। আমি এমন নির্বাচন কমিশন দেখিনি। আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে।’’ মুখ‍্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমরা বিচার চাইতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের অবিচার করা হয়েছে।’’ জ্ঞানেশ কুমারকে বেনজির আক্রমণ করে ‘বড় মিথ্যাবাদী’ বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতার। পাশাপাশি কমিশনকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে আক্রমণ করেন মমতা।

এ ছাড়াও, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসে আরও বলেন, ‘‘আমি যা চিঠি পাঠিয়েছি একটারও উত্তর কমিশন দেয়নি। ওরা উল্টো কথা বলছে। আমাদের বলছে, আমরা বিএলও দিইনি। আমরা বিএলও দিইনি তো কারা দিয়েছে? বাইরে থেকে লোক এনে অবজার্ভার করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানে না। ওরা আদালতের কথা শোনে না। তিনি মনে করেন, এ ভাবেই দেশ চলতে পারে না।

মঙ্গলবার কী কর্মসূচি হবে তা রাতে জানানো হবে বলে জানান মুখ‍্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, ‘‘পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা আমার দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করা হবে। তা মঙ্গলবার জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। যদিও মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কখনই নির্বাচন বয়কট করবেন না। তিনি বলেন, ‘‘এই ভুল আমরা কখনই করব না। আমরা লড়ে নেবে। ছ’মাস আগে থেকে আমাদের সরকারকে দখল করে রেখেছে। কোনও কাজ করতে দেয় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। বার বার নিশানা করা হচ্ছে।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এ-ও জানান, ‘‘আপনার অবস্থা জগদীপ ধনখড়ের মতো হবে। বিজেপির ভয়ে কাজ করছেন। বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে প্রভাবিত করে জিতে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতার চ্যালেঞ্জ, ‘‘প্রয়োজনে আমি এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লি আসব। এখানে প্যারেড করাব। এত লোকের মৃত্যু হল তার দায় কে নেবে? কমিশনই এই সব মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিজেপির কথায় কাজ করছে কমিশন। ধনখড়জিও এমনই করেছিলেন। আমাদের রাজ্যে রাজ্যপাল ছিলেন। আমাদের বিরুদ্ধে বলতেন। আমরা কিন্তু সম্মান দেখাতাম। তবে সম্মান দেখানোরও একটা লক্ষ্মণরেখা থাকে। এখানে তো দেখছি কোনও লক্ষ্মণরেখা নেই।’’


Share