Special Intensive Rivision

কমিশনের পাঁচটি নির্দেশের একটিও কার্যকর করেনি নবান্ন! কড়া চিঠি দিয়ে সোমবারের মধ্যে রিপোর্ট তলব নির্বাচন সদনের

বসিরহাট-II-এর বিডিও ও এইআরও শ্রীমতি সুমিত্রা প্রতিম প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বিধিবদ্ধ বিধান অমান্য করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আদেশ জারি করে শুনানি পরিচালনার জন্য ১১ জন অতিরিক্ত এআরও-কে অননুমোদিতভাবে নিয়োগ করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮

রাজ্যের মুখ্য সচিবকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় চিঠি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশ রাজ্য প্রশাসন সময়মতো পালন করেনি। তাই চলতি মাসের আগামী ৯ তারিখ দুপুর তিনটের মধ্যে সমস্ত বকেয়া নির্দেশ কার্যকর করে তার পূর্ণাঙ্গ কম্প্লায়েন্স রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ না হলে বিষয়টি গুরুতরভাবে দেখা হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিধিবদ্ধ নির্দেশ ও কমিশনের গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় দু'জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), দু'জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কমিশনের ৫ আগস্ট ২০২৫ এবং ২ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্দেশিকা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, বসিরহাট-II-এর বিডিও ও এইআরও শ্রীমতি সুমিত্রা প্রতিম প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বিধিবদ্ধ বিধান অমান্য করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আদেশ জারি করে শুনানি পরিচালনার জন্য ১১ জন অতিরিক্ত এআরও-কে অননুমোদিতভাবে নিয়োগ করেছিলেন। কমিশনের ২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর চিঠিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি। কমিশন মনে করছে, এই পদক্ষেপ ২১ সেপ্টেম্বর ২০০০-এর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং ৩১ মে ২০২৩-এর কমিশনের গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছে।

এছাড়া, কমিশন শ্রী অশ্বিনী কুমার যাদব, শ্রী রণধীর কুমার এবং শ্রীমতি স্মিতা পান্ডে এই তিন নির্বাচনী তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলিও বাতিল করেছে। অভিযোগ, ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা না মেনেই এই বদলি করা হয়েছিল। কমিশনের ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর চিঠিতে ২৮ জানুয়ারি বিকাল তিনটার মধ্যে এ বিষয়ে সম্মতি চাওয়া হয়েছিল।

পাশাপাশি, এসডিও/এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। অভিযোগ, ২৬ জুন ২০২৩-এর নির্দেশিকায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেরও পরিপন্থী। এই বিষয়ে কমিশন একাধিকবার ৩ অক্টোবর, ২৪ অক্টোবর ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-চিঠি দিয়ে রাজ্যকে সতর্ক করেছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে কমিশন যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে, এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।


Share