Anandapur Incident

‘এপ্রিল মাসের পরে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অভিযুক্তদের জেলে পাঠানো হবে,’ আনন্দপুরের অগ্নিকান্ড নিয়ে হুঙ্কার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “২০২৬ সাল তৃণমূল সরকারকে টাটা বাই বাই করার সাল। জনগণ কমিউনিস্টদের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তৃণমূলকে সরকারে এনেছিলেন। তৃণমূল এমন করেছে জনগণ কমিউনিস্টদেরকেও ভালো বলতে শুরু করে দিয়েছে। দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশ এই রাজ‍্যে শিল্পে পরিণত হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ।

আনন্দপুরের ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:১০

আনন্দপুরের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ বার সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি মনে করেন, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা ‘সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং দুর্নীতি’ ফল। ব‍্যরাকপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় মোমো কারখানার মালিক কেন এখনও গ্রেফতার হয়নি? শাহের দাবি, এপ্রিল মাসের পরে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। তার পরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে একটি মোমো কারখানা এবং ডেকরেটরের গুদামে আগুন লাগে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২১টি দেহের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২৯ জনের নামে থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। ব‍্যরাকপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, ঘটনায় ২৫ জন মারা গিয়েছেন। ২৭ জন এখনও নিখোঁজ আছে।

এই ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ওই কারখানা ছাড়পত্র ছাড়াই গুদাম বানানো হয়েছে। সেখানকার জলাভূমির বুজিয়ে গুদাম তৈরি করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এই ঘটনা কেন ঘটল। কেন হল? এই মোমো কারখানার মালিককে এখনও কেন গ্রেফতার হয়নি? তাতে কার টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।” মোমো কারখানার মালিক কার ঘনিষ্ঠ, কার সঙ্গে তিনি বিদেশে গিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তিনি রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে আরও প্রশ্ন করে বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জিজ্ঞেস করতে চাই, এরা যদি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হতো, আপনার প্রতিক্রিয়াও কি তখনও এমনই হতো? রাজ্যের এতোগুলি মানুষ মারা গিয়েছেন। এখানেও আপনি ভোটব‍্যাঙ্কের রাজনীতি করছেন। আপনার লজ্জা লাগা উচিত।”

গত বুধবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আনন্দপুরের অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তার পরেই বারুইপুর আদালতের অনুমতি নিয়ে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই ঘটনাস্থলে চলে যান নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী-সহ বেশ কয়েক জন জনপ্রতিনিধি। পরের দিন শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে মিছিল করেন শুভেন্দু। অমিত শাহের দাবি, “আমাকে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য বলছিলেন, তাঁরা সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের ওপরে পুলিশ বর্বরচিত হামলা করেছে।”

রাজ্যে দুর্নীতি ইস‍্যুতে সরব হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ বার আর আপনার সরকারের দুর্নীতি লুকানো যাবে না। আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই ঘটনায় আপনার লোকেরা জড়িত রয়েছে। ঘটনার ৩২ ঘন্টা পরে রাজ‍্যের মন্ত্রীরা গিয়েছেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, “গুদাম বাইরে থেকে বন্ধ ছিল নাকি খোলা ছিল। যদি বন্ধ থাকে তাহলে কেন বন্ধ ছিল? ভিতরে মানুষ জ্বলছিল, চেঁচাচ্ছিল। কেউ আসেনি।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি বলছি, যত পর্দা দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, এপ্রিলের পরে বিজেপি সরকার আসবে। তার পরে অগ্নিকান্ডের অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানো হবে।” এই সভা থেকে দাবি, ঘটনার তদন্ত ঠিকমতো হওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এ ছাড়াও, তিনি রাজ্যে বিভিন্ন ভাবে প্রশাসন ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “২০২৬ সাল তৃণমূল সরকারকে টাটা বাই বাই করার সাল। জনগণ কমিউনিস্টদের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তৃণমূলকে সরকারে এনেছিলেন। তৃণমূল এমন করেছে জনগণ কমিউনিস্টদেরকেও ভালো বলতে শুরু করে দিয়েছে। দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশ এই রাজ‍্যে শিল্পে পরিণত হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ।


Share