NIA Police Station

এনআইএ থানা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, খাগড়াগড়কান্ডের ১২ বছর পর প্রস্তাব পাশ করল রাজ্য মন্ত্রিসভা

খাগড়াগড়কান্ডের তদন্তের সময় ফরাক্কাকে কেন্দ্র করে একটি অস্থায়ী ক‍্যাম্প অফিস এনআইএ তৈরি করেছিল। পরবর্তী কালে কলকাতায় একটি থানা তৈরি করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিধাননগর দক্ষিণ থানার উল্টো দিকে একটি কমিউনিটি হলে শাখা অফিস চালু করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ ১১:১৯

খাগড়াগড়কান্ডে ১২ বছর পরে রাজ‍্যে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) থানা হবে পশ্চিমবঙ্গে। বুধবার রাজ‍্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠিত অপরাধ, সন্ত্রাস সম্পর্কিত যে কোনও মামলার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) করে থাকে। কোথাও এমন কোনও ঘটনা ঘটলে তদন্ত করতে রাজ‍্যের অনুমতি তাঁদের লাগে না। জালনোট পাচার, একাধিক বিস্ফোরণ, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, মাওবাদী কার্যকলাপ, ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগ থাকার একাধিক মামলা এনআইএ করছে। কাজের সুবিধার জন‍্য মুম্বই, চেন্নাই, দিল্লির মতো বড় শহরের পাশাপাশি রাঁচী, কোচি এবং ইম্ফলের ছোট শহরগুলিতে এনআইএ থানা তৈরি করেছে।

খাগড়াগড়কান্ডের তদন্তের সময় ফরাক্কাকে কেন্দ্র করে একটি অস্থায়ী ক‍্যাম্প অফিস এনআইএ তৈরি করেছিল। পরবর্তী কালে কলকাতায় একটি থানা তৈরি করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিধাননগর দক্ষিণ থানার উল্টো দিকে একটি কমিউনিটি হলে শাখা অফিস চালু করা হয়। তৃণমূল জমানায় নিরাপত্তার কারণে নিউ টাউনের এনবিসিসি ভবনে চলে যায়। সেই ভবন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বোধন করেছিলেন। এ বার এই রাজ‍্যও থানা তৈরি করবে এনআইএ।

বর্তমানে এই রাজ‍্যে কোনও ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা নিলে দিল্লিতে এফআইআর করতে হয়। সেক্ষেত্রে এই রাজ‍্যে এনআইএ থানা তৈরি করলে কাজের গতি আনতে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে এক পুলিশকর্তা মনে করছে। তাতে কর্মীর সংখ্যাও বাড়বে। ফলে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিচার পেতেও আরও দ্রুত হবে।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে রাজ‍্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এই বিষয়ে মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখনই এই বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় আসেনি।” কোথায় এই থানার ভবন তৈরি করা হবে তা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়েছে। কবে থেকে এই থানা তৈরির কাজ চালু হবে তা নিয়ে স্পষ্ট ভাবে রাজ‍্যের মন্ত্রী জানাননি।

গত সপ্তাহে তিন দিনের সফরে রাজ‍্যে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে এনআইএর ডিজি উপস্থিত ছিলেন। রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ‍্যের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আইবির শীর্ষ কর্তারাও। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভূটান সীমান্ত নিয়ে আরও সজাগ থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে সড়ক পথে আসতে গেলে ফরাক্কা ব্রিজ হয়ে আসতে হয়। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডরকে পাচারের রুট হিসেবই চিহ্নিত করা হয়। তাই সেখানেও বেশি করে নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাজ‍্যে ক্ষমতায় আসার পরেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার জন‍্য রাজ‍্য এবং কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই এনআইএ এই রাজ‍্যে পৃথক থানা গঠন করলে সমন্বয় আরও মসৃণ হবে বলে ওই পুলিশকর্তা মনে করছেন। ভবিষ্যতে যৌথ ভাবে রাজ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিধি আরও বাড়তে পারেই বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


Share