Chandrima Bhattacharya

রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের, মমতার কাছে পাঠালেন পদত্যাগপত্র, ছাড়তে চান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও

এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে যে দায়িত্ব তিনি পালন করছিলেন, সেটিও ছেড়ে দেওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৫৮

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, গত ৩ জুন যে দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করা হয়েছিল, তা থেকে তিনি সরে দাঁড়াতে চান। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস ও দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির সিগনেটরি হিসেবে থাকা দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে যে দায়িত্ব তিনি পালন করছিলেন, সেটিও ছেড়ে দেওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।
 

তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ বসু। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল পুত্র যখন বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে, তখন চন্দ্রিমা আর কতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরে থাকবেন? সেই জল্পনারই ইতি টেনে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা।

যদিও এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্য দিকে, তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চন্দ্রিমার চিঠি এখনও তাঁর হাতে পৌঁছোয়নি। চিঠির বিষয়বস্তু না দেখে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অর্থ ও স্বাস্থ্য রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রিমা। তৃণমূলের অন্দরে বহুদিন ধরেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে দেখা হতো। দলের একাংশের আপত্তি সত্ত্বেও দলীয় সংকটের সময়ে তাঁকেই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। সেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকেই শনিবার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন চন্দ্রিমা। তিনি লিখেছেন, ‘‘৩ জুন কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় রাজ্য সভাপতির যে পদে আমাকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে ইস্তফা দিলাম। বর্তমানে আর যে যে পদে আমি রয়েছি, তা থেকেও ইস্তফা দিলাম।’’ নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব আর তিনি করবেন না, দলের হয়ে যোগাযোগ করার দায়িত্ব আর পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন। দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনেও আর সই করবেন না তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী ফোন করলে কি তিনি ফিরে যাবেন? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘ফেরার কিছু বিষয় নয়। বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকে, তখন সেই জায়গায় ফেরা যায় না।’’ তবে কোন ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট করেননি চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, ‘‘জীবনে চলার পথে অনেক কিছু হয়। বয়সও তো হয়েছে আমার। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে এই জায়গায় আসি। জীবন জীবনের পথে চলে।’’ তার পরে চন্দ্রিমা এ-ও জানিয়ে দেন যে তিনি কাউকে কোনও অভিযোগ করছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। নিজেকে অভিযুক্ত করছি। আমি হয়তো ব্যর্থ হয়েছি কোথাও।’’ পদের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কি দলও ছাড়ছেন? চন্দ্রিমা জানান, ‘‘অনেক বিষয় বিচারাধীন।’’

 

 


Share