Suvendu Adhikari

‘পাতাল থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে আনতে হবে,’ বাগনানের মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরে পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ইতিমধ্যেই হাওড়ার জেলাশাসক নিহত প্রশান্তের পরিবারের কাছে লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী নিহতের পরিবারকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১০:৫৮

হাওড়ার বাগনানের মৃত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, ‘সুবিচারের’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার হয়েছে। মোট ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছিল। এখনও অধরা ৪১ জন দুষ্কৃতী। তাই তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দরকারে পাতাল খুঁড়ে অভিযুক্তদের ধরতে হবে।”

বাগনানের বিজেপি কর্মীকে খুনের ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দশ জনের একটি দল ঘটনার তদন্ত করছে। গত ২১ তারিখ এই তদন্তভার রাজ‍্য পুলিশের গোয়েন্দারা নিয়েছেন। শনিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী বাগনানে মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর ছবিতে মাল‍্যদান করেন। সেখান থেকে বাগনান থানায় যান। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সিআইডির তিন জন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এই খুনের মামলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করেন। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারিতে জোর দিতে নির্দেশ দেন। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে পাতাল খুঁড়ে অভিযুক্তদের ধরতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অত‍্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে কয়েক জনকে আক্রমণ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন কলকাতার হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অস্ত্রোপচার হয়েছে। কিন্তু প্রশান্তকে বাঁচানো যায়নি। আমি প্রথম দিন থেকে ঘটনার ওপরে নজর রেখেছি।”

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ইতিমধ্যেই হাওড়ার জেলাশাসক নিহত প্রশান্তের পরিবারের কাছে লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী নিহতের পরিবারকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই টাকা মুখ্যমন্ত্রীর বিপর্যয় তহবিল থেকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিডিও অফিসে প্রশান্তের বড় মেয়েকে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়া হয়েছে। নিহত প্রশান্ত ওই পরিবারে একমাত্র রোজগারের ছিলেন। তাই বাবা-মা যাতে বার্ধক্যভাতা যাতে পান তা নিশ্চিত করতেও মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ গিয়েছেন।

অভিযুক্তরা যাতে কোনও ভাবেই রেয়াত না পায় তা-ও স্পষ্ট করে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, অভিযুক্তরা হেফাজতে থাকাকালীনই চার্জশিট জমা দিতে হবে। চার্জশিট পেষ করার সময় বিশেষ সরকারী আইনজীবী নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই এলাকায় ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। বাইনানে মূক ও বধির এক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেই মামলার তদন্ত সিবিআই করছে।” তাঁর কথায়, তৃণমূল আমলে এই ধরনের ঘটনাতে বিচার পায়নি বলে এই আস্ফালন হয়েছে। বিচার পায়নি বলে গুন্ডা-খুনি-অত‍্যাচারীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, অভিযুক্তদের কোথায় কী অবৈধ সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছে তা ‘ফ‍্যাক্ট ফাইন্ডিং’ করে জানাতে হবে জেলাশাসককে। এই ধরনের কোনও ঘটনা যাতে এই এলাকায় না ঘটে তা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “আগের জমানায় গ্রেফতার করার আগে ধর্ম দেখা হত। সে কোন গোষ্ঠীর তা দেখা হত। কিন্তু এখন শাসকের আইন আর নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েত। নির্বাচনের পর থেকে ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি সেখানে ফিরতেই তাঁর বাড়ি ঘেরাও হয়। অভিযোগ, সেই সময় মফিজুল এবং তার দলবদল বিক্ষোভকারীদের ওপরে হামলা চালায়। সেই হামলায় কয়েক জন জখম হন। হাসপাতালের নিয়ে গেলে প্রশান্ত দে-কে মৃত বলে চিকিৎসকেরা ঘোষণা করেন।


Share